×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

আইনি পরিস্থিতিতে পুলিশের গুলি চালানোর অধিকার আছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৬:৪৩:০২

আইনি পরিস্থিতিতে পুলিশের গুলি চালানোর অধিকার আছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আইনি পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশের কাউকে হত্যা করার অধিকারও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে এ ধরনের বলপ্রয়োগ অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং আনুপাতিক হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশের বলপ্রয়োগ করার আইনি অধিকার রয়েছে। আইনি প্রেক্ষাপট তৈরি হলে কাউকে হত্যা করার অধিকারও পুলিশের থাকতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ হতে হবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং আনুপাতিক।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমি আগে একদিন বলেছিলাম, বাংলাদেশের পুলিশ শেখ হাসিনার সময়ের পুলিশের মতো আর হবে এটা আমি আশা করি না। আমি একজন নাগরিক হিসেবে বলছি, সরকারি মানুষ হিসেবে বলছি না। একটা বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে, কোনো অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সরকার কীভাবে সামাল দেবে?’

অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় আওয়ামী লীগ যেভাবে ঢুকে পড়ে, আমরা তার চেয়ে অনেক ভালোভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি বলে মনে করি। তারপরও দু-একটি জায়গায় ভুলভ্রান্তি হতে পারে, হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘদিন কেউ একটি প্রক্রিয়ায় কাজ করলে সেই প্রক্রিয়ার কিছু চর্চা কোথাও কোথাও চলতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটু সময় দিতে হবে।’

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দায়িত্বের পার্থক্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাদের সরকারের অবস্থান জানাচ্ছি। সেনাবাহিনী যখন কোনো পরিস্থিতি সামাল দেয়, তাদের বন্দুক তাক করা থাকে শত্রুর দিকে। তারা চায়, একটি গুলিতে যেন একজন শত্রু মারা যায়। কিন্তু পুলিশ যখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো পরিস্থিতিতে জড়ায়, এমনকি কখনো বন্দুক তাক করলেও, সেটি নিজের দেশের জনগণের দিকে তাক করা হয়।’

তিনি বলেন, পুলিশকে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। পুলিশের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকলেও কোথায় গুলি করলে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব, তা বিবেচনা করতে হবে। এ ধরনের চর্চা বর্তমান সরকারের অধীনে পুলিশ করবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। এ জন্য আরও কিছু সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি যতটা দেখা যাচ্ছে, এসব ঘটনা অনেক কমে আসবে।

পুলিশের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের আইনি সীমা ব্যাখ্যা করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর বিধান রয়েছে। তবে সে ধরনের আইনি পরিস্থিতি তৈরি হলেই কেবল তা প্রয়োগ করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদের মৃত্যুর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘একটি সহজ উদাহরণ দিই। আবু সাঈদ কি কোনো হুমকি তৈরি করছিল? আমি জুলাইয়ের আবু সাঈদের কথা বলছি, যে দুহাত দুই দিকে ছড়িয়ে দাঁড়িয়েছিল। তার আশপাশে অন্য কোনো আন্দোলনকারী ছিল কি না? কেউ কি পুলিশকে ইটপাটকেল মারছিল, গুলি তো দূরের কথা? তাহলে তাকে গুলি করা হলো কেন?’

তিনি বলেন, ‘এগুলোই প্রশ্ন। আবারও বলছি, পুলিশের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকে।’

পুলিশের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা বলছি, পুলিশের কাছে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অস্ত্র থাকতে হবে না। কিন্তু রিভলভারও একটি প্রাণঘাতী অস্ত্র, শর্টগানও প্রাণঘাতী অস্ত্র। পুলিশের কাছে এসব অস্ত্র থাকে। অর্থাৎ, এমন পরিস্থিতি কখনো তৈরি হতে পারে, যখন পুলিশ তার প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে।’

তবে এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার আইনি প্রক্রিয়া ও নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগ কতটা প্রয়োজনীয় ছিল, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে বলে জানান।

হাসিনা সরকারের সময় পুলিশের বলপ্রয়োগের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘হাসিনার সময় আমরা ট্রিগার-হ্যাপি পুলিশ দেখেছি। যেখানে সামান্য বলপ্রয়োগ, লাঠিপেটা বা কাঁদানে গ্যাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত, সেখানে গুলি চালানো হয়েছে। যেখানে শর্টগান দিয়ে গুলি করা যেত, সেখানে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এই জায়গাগুলো থেকে সরে আসতে হবে। আমার বক্তব্য ছিল সেটাই।’

সাম্প্রতিক বলপ্রয়োগ ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনই কোনো বিষয়ে এভাবে মন্তব্য করতে চাই না। অনেকে অনেক রকম অভিযোগ করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর কথাবার্তা হচ্ছে। কিন্তু একটি রাষ্ট্র রাষ্ট্রের মতো চলবে। এ নিয়ে নিশ্চিতভাবেই তদন্ত হবে। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক এ ধরনের মৃত্যুর শিকার হলে তাঁর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রয়েছে। আমরা যেন সেগুলোর দিকে খুব বেশি দৃষ্টি না দিই।’

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে শ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টসের মজুরি কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে টেকনিক্যালি একই সময়ে এটি গঠনের কথা ছিল না। পাঁচ বছর পরপর মজুরি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। ২০২৩ সালে একবার মজুরি পুনর্নির্ধারণ হয়েছিল। ২০২৩ সালের পর ২০২৬ সালে এসে এই কমিশন গঠনের কথা ছিল না।’

মজুরি পুনর্নির্ধারণের আগের বছরগুলোর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮, ২০২৩-এর পর আবার ২০২৬ সালে হলো।’

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ