×

ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

অনেক হয়েছে রাজনৈতিক ধানাই-পানাই, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি দিন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৭:৪২:৩৩

অনেক হয়েছে রাজনৈতিক ধানাই-পানাই, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি দিন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, অনেক হয়েছে রাজনৈতিক ধানাই-পানাই। এখন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর পেটে ভাত, গায়ে কাপড় এবং পরিবারের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন তিনি।

পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, একটি দেশের জাতীয় রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিতে শ্রমিকের মর্যাদা, ন্যায্য অধিকার ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে সেই দেশ কখনোই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না। শ্রমিককে বঞ্চিত করে সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে ওঠে না। বরং এমন পরিস্থিতিতে লুটেরা অর্থনীতির জন্ম হয়, সম্পদের বৈষম্য বাড়ে, অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং একসময় রাষ্ট্র নিজেই জুলুমবাজ হয়ে ওঠে।

তিনি লেখেন, ‘আচ্ছা, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই যে আসলাম শ্রমিকদের আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে, তাহলে প্রশ্ন হলো—গত ৫৪ বছরে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কেন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ খাতটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি? কেন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা আজও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের জায়গা পায়নি?’

ফেসবুক পোস্টে এনসিপির এই নেতা আরও লেখেন, শ্রমিকের পেটের ক্ষুধা, ন্যায্য মজুরি এবং পরিবারের সদস্যদের দুবেলা খাবার দেওয়ার আকুতিকে রাজনৈতিক ইন্ধনের তকমা দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না। মানুষের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আড়ালে ঠেলে দেওয়া আসলে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার পুরোনো কৌশল।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, শ্রমিকেরা কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি নন। তাঁরা এ দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, উৎপাদনের কারিগর এবং আমাদেরই ভাই-বোন ও সন্তান। তাঁদের ঘামেই কারখানা সচল থাকে, অর্থনীতির চাকা ঘোরে এবং দেশের প্রবৃদ্ধি আসে।

তিনি আরও লেখেন, একজন শ্রমিকের পেটে ভাত, গায়ে পরার কাপড় এবং মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ থাকলে, পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা থাকলে তাঁর জীবন অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ হতো। তখন তাঁর ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক ইন্ধনের গল্প বানানোর সুযোগও অনেক কমে যেত।

এনসিপির এই নেতা লেখেন, ‘অনেক হয়েছে রাজনৈতিক ধানাই-পানাই। এখন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করুন। তার পেটে ভাত দিন, গায়ে কাপড় দিন, পরিবারের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করুন। শুধু উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করুন।’

তিনি বলেন, তাঁদের প্রত্যাশা খুব সাধারণ—যে দেশে একজন শ্রমিকের সন্তানও সম্মানের সঙ্গে বাঁচবে, পড়াশোনা করবে, স্বপ্ন দেখবে এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়বে।

পোস্টের শেষাংশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’—এই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা শুধু কোনো বিত্তশালী পরিবারের জন্য নয়, বাংলার প্রতিটি শ্রমজীবী পরিবারের জন্যও সত্য হোক। শ্রমিকের অধিকার কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়, এটি তাঁর ন্যায্য পাওনা। শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক, শোষণ ও বৈষম্যের অবসান হোক, সব জুলুমতন্ত্রের অবসান হোক।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত