ঢাকা, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

আগামী বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সায়েন্স টয়’ চালু হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ

২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৮:২২:৩৮

আগামী বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সায়েন্স টয়’ চালু হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে আগামী বছর স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় এনে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া শিশু আর দেশে থাকবে না।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে যারা নিম্নমানের খাবার পরিবেশন বা কোনো অনিয়ম করবে, তাদের খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বাদ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে। আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি সমন্বিত সরকারি মনিটরিং কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘সায়েন্স টয়’ কার্যক্রম চালু করা হবে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আটটি ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে পাঠদান করানোর অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, এলাকাবাসীকে নিজ নিজ বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদেরও স্কুলের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এতে বিদ্যালয়ের প্রতি সবার দায়িত্ববোধ তৈরি হবে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। বিদ্যালয়ের এলাকার মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই এই কমিটি গঠন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য এলাকাবাসীকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। তারা স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যালয় আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সভাপতি এ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা রংপুরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, দিনাজপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুজ্জামানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুজ্জামান জানান, কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হলো শুকনো খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকে পুষ্টিকর রান্না করা দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) সরবরাহ করা হবে।

দিনাজপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলাগুলো হলো-কাহারোল, ঘোড়াঘাট, বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ। এ কর্মসূচির মাধ্যমে পাঁচটি উপজেলার ৬৮ হাজার ৭৬১ হাজার শিক্ষার্থীকে স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হবে।

ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় দিনাজপুর জেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত