ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার

২০২৬ জুলাই ৩০ ১৬:২৮:০১

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। একই সঙ্গে তিনি জানান, মালয়েশিয়া থেকেও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার।

গতকাল মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় প্রদেশ নেগেরি সেম্বিলানের চেন্নাহ শহরে আয়োজিত এক জনসভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

জনসভায় তিনি বলেন, “আমাদের নাগরিকরা বলতেন যে ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠান, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠান’, কিন্তু কোথায় আমরা তাদের ফেরত পাঠাতাম? মিয়ানমার তো তাদের গ্রহণ করতে রাজি ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি তারা মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে।”

এ সাফল্যের পেছনে কূটনৈতিক আলোচনার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কীভাবে এটা সম্ভব হলো? সম্ভব হয়েছে এই কারণে যে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। এ কারণেই মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে সতর্ক কূটনীতি প্রয়োজন।”

২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) একযোগে বোমা হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

সেনা সদস্যদের নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মুখে নাফ নদী পেরিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বাংলাদেশ সরকার তাদের কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার কুতুপালংয়ে আশ্রয় দেয়। পরে জাতিসংঘ ও অন্যান্য দাতা সংস্থা খাদ্যসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদান শুরু করে। সেই ব্যবস্থা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে ১৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়াতেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি বড় কমিউনিটি রয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছেন।

চেন্নাহর জনসভায় আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শরণার্থীদের দেশটির আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমি এর আগেও সতর্ক করেছি এবং আবারও করছি। গতকাল পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং নির্দেশ দিয়েছি যে শরণার্থী শিবির এবং অনুমোদিত এলাকাগুলো ব্যতীত অন্য কোথাও যেন তাদের উপস্থিতি চোখে না পড়ে।”

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এটা মালয়েশিয়া। তারা আমাদের বিরক্ত করতে পারবে না। যদি করে, পুলিশ সেক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেবে।”

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি... বিস্তারিত