ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাজধানীর বাজারে সবজির দামে আগুন, চাপে সাধারণ ক্রেতা

২০২৬ জুলাই ২৫ ০৯:০৫:২৮

রাজধানীর বাজারে সবজির দামে আগুন, চাপে সাধারণ ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়াকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যতালিকায় সবজিও এখন অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে এখন ১০০ টাকার একটি নোট দিয়ে এক কেজি সবজি কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একসময় যে অর্থে একাধিক ধরনের সবজি কেনা যেত, বর্তমানে তা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে একটি সবজিও পুরো কেজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। পেঁপে ও ঢেঁড়সের মতো হাতে গোনা কয়েকটি সবজি ছাড়া অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে অবস্থান করছে।

শুক্রবার রাজধানীর কাঁঠালবাগান, মালিবাগ ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বর্ষণে ফসলের ক্ষতি, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং ঢাকায় সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে বরবটি, করলা ও লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ টাকায়। গোল বেগুন ১৬০ টাকা, উচ্ছে ১৪০ টাকা, টমেটো ১৬০ থেকে ২২০ টাকা, শসা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, গাজর ১৩০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আকারভেদে লাউ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ফুলকপি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে রয়েছে পেঁপে, যার দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

সবজির পাশাপাশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দামও। বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৮০ টাকায়, কোথাও কোথাও তা ৩০০ টাকাও ছুঁয়েছে। ধনেপাতা ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মহানগর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা বিউটি আক্তার বলেন, করলা কিনতে হয়েছে কেজিপ্রতি ১২০ টাকায়। তার ভাষায়, বাজারে মাছ, সবজি সবকিছুর দামই বেড়েছে। আগে যে মাঝারি আকারের চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম ৯৫০ টাকারও বেশি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বৃষ্টির প্রভাব না থাকা সত্ত্বেও কলার মতো পণ্যের দাম কেন বাড়ছে।

মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সোহেল জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আড়তে বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।

শুধু সবজিই নয়, প্রাণিজ আমিষের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে সোনালি কক মুরগি কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩২০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও বেশিরভাগ প্রজাতির দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কই মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারেও দাম বেড়েছে। বর্তমানে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

কাঁঠালবাগান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী বলেন, এখন ১০০ টাকার নিচে সবজি পাওয়াই কঠিন হয়ে গেছে। তার অভিযোগ, কাঁচা মরিচই কিনতে হয়েছে ২৮০ টাকা কেজিতে। সবজির এমন দামে সংসারের খরচ সামলানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ সংকটকে মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সহনীয় পর্যায়ে ফিরে আসবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরি... বিস্তারিত