×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

দুই দশকের দলীয়করণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাংস্কৃতিক অঙ্গন

২০২৬ জুন ২০ ১৯:২১:৪৩

দুই দশকের দলীয়করণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাংস্কৃতিক অঙ্গন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সংস্কৃতিকে সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। তিনি বলেছেন, সংস্কৃতির বিকাশে দীর্ঘদিনের নানা সীমাবদ্ধতা দূর করে এটিকে জনগণের সংস্কৃতিতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নদীমাতৃক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত দুই দশকে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ব্যাপকভাবে দলীয়করণের শিকার হয়েছে। এর ফলে সংস্কৃতির স্বাভাবিক ও নিজস্ব বিকাশ ব্যাহত হয়েছে। নানা কারণে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও শক্ত ভিতের ওপর গড়ে ওঠার সুযোগ পায়নি।

তিনি বলেন, একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনার অন্যতম বাহক হচ্ছে সংস্কৃতি। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এ খাত নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছিল। বিশেষ করে দেশের অধিকাংশ জেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, অনুকূল পরিবেশ এবং কার্যকর কর্মসূচির ঘাটতি ছিল।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করে তা মানুষের সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। সংস্কৃতি যেন নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে একটি সুস্থ, সুন্দর ও প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুগের চাহিদা অনুযায়ী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ, শিল্পীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পী তৈরির বিভিন্ন পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের বিকাশের জন্য একটি কার্যকর ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।

অনুষ্ঠানে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. খলিল গাজীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত