ঢাকা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সরকারি খাদ্যশস্যের মোট মজুত ২০ লাখের বেশি 

২০২৬ জুন ২০ ১৩:০০:৩৮

সরকারি খাদ্যশস্যের মোট মজুত ২০ লাখের বেশি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত বর্তমানে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ভাসমান (ফ্লোটিং) মজুতসহ দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মোট মজুত দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টনে।

দৈনন্দিন খাদ্যশস্য পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি গুদামগুলোতে বর্তমানে চালের মজুত রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। পাশাপাশি গমের মজুত ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। ফলে ভাসমান মজুত বাদ দিলে মোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন।

এর সঙ্গে গমের ২০ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এবং চালের ১ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টন ভাসমান মজুত যুক্ত হলে খাদ্যশস্যের মোট সরকারি মজুত ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টনে পৌঁছায়।

প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, ধানের মজুতকে চালে রূপান্তর করেই মোট মজুতের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী বোরো সংগ্রহ কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ১৭ জুন পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন ধান, ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৪৯৪ মেট্রিক টন গম। এ ক্ষেত্রেও ধানকে ১০০:৬৫ অনুপাতে চালে রূপান্তর করে মোট সংগ্রহের হিসাব করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে দেশে মোট ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে চাল এসেছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫৭ টন।

খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় জিটুজি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে মোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন এবং গম ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক আমদানির পরিমাণ ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৬ টন এবং গম ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭ টন। চলতি অর্থবছরে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কোনো চাল বা গম আমদানি হয়নি।

শুধু ১৭ জুন দেশে খাদ্যশস্য আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২০ টন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৯০ টন চাল এবং ৩ হাজার ৩০ টন গম দেশে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান মজুত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ কার্যক্রম ও আমদানি অব্যাহত থাকায় বাজারে চাল ও গমের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলেও তারা আশাবাদী।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া জানান, সাধারণভাবে ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্যকে নিরাপদ মজুত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই তুলনায় বর্তমান মজুত অনেক বেশি এবং অত্যন্ত নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জামাল হোসেন বলেন, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং খাদ্য মজুত এখন সন্তোষজনক পর্যায়ে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, বোরো মৌসুমে নতুন ধান ও চাল সংগ্রহ অব্যাহত থাকায় আগামী সময়ে খাদ্যশস্যের মজুত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, গত ৩ মে শুরু হওয়া খাদ্য সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এ সময়ের মধ্যে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

খাদ্য সচিবের ভাষ্য, আমদানি কার্যক্রমসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনগুলোতে দেশের খাদ্যশস্যের মজুত আরও শক্তিশালী হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২০ জুন)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২০ জুন)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয়ের পর এবার... বিস্তারিত