×

ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

যুদ্ধের আড়ালে আজারবাইজানে ইসরাইয়েলের কমান্ডো মোতায়েন

২০২৬ জুন ০৭ ১০:৫২:২৯

যুদ্ধের আড়ালে আজারবাইজানে ইসরাইয়েলের কমান্ডো মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় প্রতিবেশী আজারবাইজানের ভেতরে গোপনে বিশেষ সেনা ও গোয়েন্দা দল মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েলের যে গোপন সামরিক নেটওয়ার্ক ছিল, আজারবাইজানের অবস্থান তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

সূত্রগুলোর মধ্যে দুটি জানিয়েছে, আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গোপন স্থাপনা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কার্যক্রম পরিচালনা করত। এসব অবস্থান ইরানের উত্তর সীমান্তের খুব কাছাকাছি ছিল। এমনকি একটি ঘাঁটি ইরানের তাবরিজ শহর থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে অবস্থিত ছিল। যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল তাবরিজে বিমান হামলাও চালিয়েছিল।

অন্য দুটি সূত্রের ভাষ্য, ওইসব এলাকায় ইসরায়েলের বিশেষ কমান্ডো ইউনিট মোতায়েন ছিল। তারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ড্রোন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করত। এর ফলে উত্তর ইরানে সার্বক্ষণিক নজরদারির সুযোগ পায় ইসরায়েল।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজারবাইজানে এই গোপন মোতায়েনের তথ্য আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েলের গড়ে তোলা বিভিন্ন অগ্রবর্তী অবস্থানের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র। এর মাধ্যমে ইসরায়েল এমন সব অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিল, যেখানে আগে তাদের উপস্থিতি কল্পনাও করা হতো না।

সূত্রগুলোর দাবি, আজারবাইজানের পাশাপাশি ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সোমালিল্যান্ডেও ইসরায়েলের গোপন সামরিক স্থাপনা ছিল। শুরুতে এসব অবস্থান জরুরি উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রস্তুত রাখা হলেও পরে সেগুলোকে গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ইসরায়েল ইরানের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, আজারবাইজানের মিশনে কয়েক ডজন সদস্য অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বিশেষ অভিযান বাহিনীর সদস্য, হেলিকপ্টারভিত্তিক আক্রমণ ও উদ্ধার ইউনিটের সদস্য এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও ছিলেন।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে আজারবাইজান। যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির দূতাবাসের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহারের দাবি ভিত্তিহীন এবং তা দৃঢ়ভাবে নাকচ করা হচ্ছে। একই বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলের স্বঘোষিত রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডেও ইসরায়েলের একটি গোপন সামরিক অবস্থান ছিল। সেখানে দূরপাল্লার অভিযানে অংশ নেওয়া ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো জ্বালানি ও রসদ সংগ্রহের সুযোগ পেত বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েল প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।

এদিকে যুদ্ধ চলাকালে ইরাকে ইসরায়েলের দুটি গোপন স্থাপনা থাকার খবর এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করেছিল। যদিও ইরাকের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, মার্চের শুরু পর্যন্ত দেশটিতে কোনো অননুমোদিত বিদেশি ঘাঁটি বা বাহিনী ছিল না। অন্যদিকে, অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল যে যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে গোপনে একটি আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যাটারি স্থাপন করেছিল ইসরায়েল। তবে আমিরাতও এ দাবি অস্বীকার করেছে।

ব্যবসায়িক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও আজারবাইজানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আজারবাইজান ইসরায়েলের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে থাকে। বিপরীতে ইসরায়েল দেশটিকে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র সরবরাহ করে, যার কিছু নাগোরনো-কারাবাখ সংঘাতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক গেরশোন কোগান আগে মন্তব্য করেছিলেন, আজারবাইজান-ইসরায়েল সম্পর্ককে অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হলেও বাস্তবে তা অস্ত্র, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জশুয়া কুসেরা মনে করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে আজারবাইজান কূটনৈতিকভাবেও লাভবান হয়েছে এবং ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের প্রভাবকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত