ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে জোর প্রস্তুতি, যেদিন থেকে কার্যকরের সম্ভাবনা

২০২৬ জুন ০১ ১৯:১৬:৫৩

নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে জোর প্রস্তুতি, যেদিন থেকে কার্যকরের সম্ভাবনা

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা আর নানা আলোচনার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আলোচনা নতুন করে গতি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর আগে সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং প্রজ্ঞাপন জারি হওয়া জরুরি।

নতুন এই পে-স্কেলকে ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, শুধু মূল বেতন নয় ভাতা, আর্থিক সুবিধা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এমন আলোচনায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পে-স্কেলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়কে সমন্বয় করা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বেতন কাঠামোগত বৈষম্য কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে শুধু বেতন বাড়ানোর বিষয় নয়, চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নবম জাতীয় পে-কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানের ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের বেতন নতুনভাবে পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি স্বস্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কিছু নির্দিষ্ট গ্রেডে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের দিকেও এখন সবার নজর।

প্রথম গ্রেডে বর্তমানে মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। নতুন প্রস্তাবে তা বেড়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।

দশম গ্রেডে বর্তমানে ১৬ হাজার টাকা বেতন বেড়ে ২৪ হাজার টাকা হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

আর ২০তম গ্রেডে বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে প্রস্তাবিত বেতন দাঁড়াতে পারে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকায়।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী দ্বিতীয় গ্রেডে ৬৬ হাজার টাকা থেকে ৯৯ হাজার, তৃতীয় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৮৪ হাজার ৭৫০, চতুর্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার, পঞ্চম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

একইভাবে নিচের দিকের গ্রেডগুলোতেও বেতন সমানুপাতিক হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য বাস্তব জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত এক দশকের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় এটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেক্ষা শেষ হয়নি।

১ জুলাইকে সামনে রেখে সরকারি দপ্তরগুলোতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় নতুন পে-স্কেল বাস্তবে কতটা দ্রুত কার্যকর হয় এবং চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে কোন কোন বিষয় যুক্ত থাকে।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত