ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২

রেশম শিল্পের গৌরব ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: পাট প্রতিমন্ত্রী

২০২৬ এপ্রিল ১১ ১৫:৫৭:০৬

রেশম শিল্পের গৌরব ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: পাট প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশীয় ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজশাহী সিল্ককে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

শরীফুল আলম বলেন, রাজশাহী সিল্ক শুধু একটি শিল্প নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। এই শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুনভাবে দাঁড় করাতে সরকার কাজ করছে। রেশম শিল্পের পুনরুজ্জীবনে মাঠপর্যায়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা পরিদর্শনের মাধ্যমে সরাসরি দেখা হচ্ছে।

রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে। তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা পিছিয়ে পড়ার কারণে এ নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বাড়াতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

রেশম শিল্পের সঙ্গে জড়িত ঐতিহ্যবাহী কারিগর বা বোসনিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন। বয়সের কারণে তাদের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। বোসনিদের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা না গেলে এই শিল্পের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা, সিল্কের প্রসার বাড়ানো এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীন ও জাপানের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় সিল্ক পণ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বোর্ডের কার্যক্রম তুলে ধরেন। এছাড়া বোর্ডের সভাকক্ষে ‘রাজশাহী সিল্কের উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত