ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল

২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৮:৪৮:০৭

বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে বিচার বিভাগের কাঠামো সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে বিল পাস করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদে বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা সংশ্লিষ্ট তিনটি অধ্যাদেশ কার্যত বাতিল হয়ে যায় এবং বিচার বিভাগ আগের সাংবিধানিক কাঠামোয় ফিরে যায়।

বৃহস্পতিবার সংসদে এ দুটি বিল উত্থাপন করা হলে বিরোধী দলের আপত্তি ও মতভেদ প্রকাশ পায়। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিল পাসের আগে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, এই সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং অতীতের মতো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। তিনি বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন এবং বলেন, এটি অসাংবিধানিক।

অন্যদিকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অধিকতর পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে। তিনি আরও জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই সরকার কাজ করছে।

এ সময় সংসদে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া ও অধ্যাদেশ বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং আগের অধ্যাদেশটি একটি উন্নত কাঠামো ছিল।

আইনমন্ত্রী তার জবাবে বলেন, অতীতে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল এবং সরকার একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

দীর্ঘ আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ হয়ে যায় এবং দুটি বিলই পাস হয়। এতে বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে নতুন করে আগের সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হলো। স্পিকার পরে জানান, আলোচনার সময় ব্যবহৃত একটি শব্দ সংশোধন করা হয়েছে এবং তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ