ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুখবর দিল মালয়েশিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এবং অভিবাসন খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, ন্যায্য ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের শোষণ প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।
শ্রমবাজার বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিতে গত বুধবার মালয়েশিয়া যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার এই উপদেষ্টার দায়িত্ব শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সমন্বয় করা। এটি বর্তমান সরকারের অধীনে শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।
বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এর কার্যালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও সংশ্লিষ্ট হাই কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান–কে অভিনন্দন জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও দীর্ঘ সংগ্রামের প্রশংসা করেন। বৈঠকে দুই পক্ষ শ্রম সম্পর্ক উন্নয়ন, স্বচ্ছ ও কার্যকর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
এরপর পুত্রজায়ায় দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো শ্রী রমনন রামকৃষ্ণন এবং বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
দ্বিপাক্ষিক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রম অভিবাসনে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে একমত হয়েছে তারা। মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে।
এছাড়া মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমানো, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, যোগ্য নিয়োগ সংস্থা ব্যবহার, আটকে থাকা কর্মীদের নিয়োগ সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) নির্দেশিত ‘নিয়োগকর্তা অর্থ প্রদান করবেন’ নীতি বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পক্ষ বৈশ্বিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগেও সমর্থন জানিয়েছে।
মানব পাচার প্রতিরোধ, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমবাজারকে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে উভয় দেশ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছায়। একই সঙ্গে অনিয়ম মোকাবিলা ও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সবশেষে বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ ও ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়া সরকারের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- প্রজ্ঞাপনের আগে পে স্কেলের বেতন তালিকা
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- ফের কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৭১১৫ টাকা
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ৪৩ জনের চাকরির সুযোগ
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং, কোন এলাকায় কত
- এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর
- আজকের খেলার সময়সূচি (৩১ আগস্ট)
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত