ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

হামলার মিনিট আগে বাগানে গিয়ে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি

২০২৬ মার্চ ১৭ ১৬:১৯:০১

হামলার মিনিট আগে বাগানে গিয়ে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভাগ্যের জোরেই প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি—ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার মাত্র কয়েক মিনিট আগে তিনি নিজ কক্ষ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই তার কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ অভিযানের প্রথম দিনেই নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার আবাস ও কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত কম্পাউন্ডে প্রথম দফাতেই হামলা চালানো হয়।

খামেনির মৃত্যুর পরপরই তার দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। তবে ওই হামলার দিন তিনিও একই কম্পাউন্ডে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কয়েক মিনিট আগে মোজতবা ঘর থেকে বের হয়ে বাগানে হাঁটতে যান। ওই মাধ্যমটি একটি ফাঁস হওয়া অডিও সংগ্রহ করেছে, যা তারা যাচাই করেছে বলে দাবি করেছে।

অডিওতে খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা ও আইআরজিসি-এর কমান্ডারদের উদ্দেশে ওই দিনের ঘটনা তুলে ধরেন।

তার বর্ণনা অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে ‘ব্লু স্প্যারো’ নামের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণ আগেই মোজতবা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

হোসেইনি জানান, সরাসরি আঘাতের মুখে না পড়লেও মোজতবা খামেনি পায়ে আঘাত পান। তবে হামলায় তার স্ত্রী ও সন্তান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া তার শ্যালকের দেহ ভয়াবহভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়।

তিনি আরও বলেন, খামেনির সামরিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ সিরাজি এই হামলায় নিহত হন এবং তার মরদেহ চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

অডিওতে হোসেইনি বলেন, “সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় তিনি বাইরে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময়ই ক্ষেপণাস্ত্র ভবনে আঘাত হানে।” তিনি উল্লেখ করেন, হামলার মুহূর্তে মোজতবা বাইরে থেকে ফিরে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিলেন।

বিবরণ অনুযায়ী, একই সময় কম্পাউন্ডের একাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়, যার লক্ষ্য ছিল পুরো খামেনি পরিবারকে একযোগে নিশ্চিহ্ন করা।

হোসেইনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, খামেনি যেখানে অবস্থান করছিলেন, সেখানে পরপর তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

ঘটনার বিস্তারিত এই তথ্যগুলো উঠে আসে ১২ মার্চ তেহরান-এর কিয়োলহাক এলাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে, যেখানে হোসেইনি ধর্মীয় নেতা ও সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত