ঢাকা, সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
নদী দূষণে বিপন্ন ইলিশ, সতর্ক করলেন মৎস্য উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: শিল্পাঞ্চলের অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলায় ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশের জলজ সম্পদ। নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য শীতলক্ষ্যা হয়ে মেঘনায় মিশে ইলিশসহ নানা জলজ প্রাণীর অস্তিত্বকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে সতর্ক করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক গবেষণায় ইলিশ মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ অবস্থায় নদী দূষণ রোধকে কেবল সরকারি দায়িত্ব হিসেবে না দেখে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফরিদা আখতার। আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, শিল্পবর্জ্যের লাগামহীন নিঃসরণ ইলিশের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে। এই সংকট মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে গরিব দেশ ভাবার সুযোগ নেই—মানুষের দক্ষতা, সুপেয় পানি, উন্নত বীজ ও জেনেটিক রিসোর্সই দেশের প্রকৃত শক্তি।
ভবিষ্যতে পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক সংঘাতের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশ ও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ফরিদা আখতার বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় শুধু গবাদিপশুর সুরক্ষায় নয়, কুকুর-বিড়ালসহ সব প্রাণীর কল্যাণে কাজ করছে। তিনি কুকুরের নিয়মিত টিকাদানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত পেট কার্নিভালের উদাহরণ উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ধূমপান বা তামাক ব্যবহার কোনোভাবেই স্মার্টনেসের পরিচয় নয়; বরং এটি ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের কারণ। তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রণীত নতুন আইন সবার জন্য বাধ্যতামূলক বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, অর্জিত ডিগ্রির মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আচরণ, পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতায় উৎকর্ষ অর্জন জরুরি। দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে একটি নিরাপদ ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
আশা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম রেজাউল করিমের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। আরও বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক।
সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ছয়জন শিক্ষার্থী পান ‘চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড’ এবং নয়জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় ‘ভাইস-চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড’।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষ-জেনে নিন ফলাফল
- গান-কবিতায় প্রাণবন্ত ডুপডা’র বৈশাখ উৎসব
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- শিক্ষাবৃত্তি দেবে ইবনে সিনা ট্রাস্ট, আবেদন শুরু
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- ১২৩তম প্রাইজবন্ড ড্র: দেখে নিন কোন নম্বরগুলো জিতল
- বিকালে আসছে ৫৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- মিমোর মৃ'ত্যু ঘিরে সর্বশেষ যা জানা গেল
- ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামলো আরও ১০ ব্যাংক
- নতুন ট্রেন্ড: ক্রেয়ন স্টাইলে প্রোফাইল ছবি বানাবেন যেভাবে
- জাপানের মেক্সট স্কলারশিপে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আবেদন শুরু
- আর্থিক প্রতিবেদনে নয়ছয়: ৩ অডিট ফার্ম ও ৪ অডিটর নিষিদ্ধ