ঢাকা, শনিবার, ২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
যাচাই শেষে শুরু হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ: পানি সম্পদ উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তাৎক্ষণিক কাজ শুরুর গুঞ্জনের মধ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশই প্রকল্প বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়ায় জানুয়ারি মাসে এর কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এই বিলম্বকে হতাশার কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর তালুক শাহবাজপুর এলাকায় তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ অঞ্চল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পানি সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি বহুমাত্রিক ও বড় প্রকল্প হওয়ায় এর প্রতিটি দিক অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ ও সেচ ব্যবস্থাকে একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করায় প্রকল্পটি তুলনামূলকভাবে জটিল। তাড়াহুড়ো করে কাজ শুরু না করে সময় নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই হবে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করে চীনের বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। মানুষের প্রত্যাশা বেশি বলেই চীনও কোনো ধরনের ভুলত্রুটি ছাড়াই কাজটি বাস্তবায়নে আগ্রহী। চীনের রাষ্ট্রদূতও জানিয়েছেন, তারা যত দ্রুত সম্ভব এই প্রকল্পে কাজ শুরু করতে চান।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের আসন্ন নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এর অর্থ, এই প্রকল্প কোনো একক সরকারের নয়—এটি জাতীয় অগ্রাধিকারভুক্ত একটি উদ্যোগ। তাই অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টি ফেলে রাখেনি বরং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি বন্ধুত্ব। চীন একটি ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও উন্নয়ন সহযোগী দেশ। নদী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চীন বাংলাদেশে একটি বড় হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন।
তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা প্রসঙ্গে পানি সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি চলমান ও বড় রাজনৈতিক ইস্যু। নির্বাচিত সরকার এসে যেন এই বিষয়ে কাজ শুরু করতে বিলম্ব না হয়, সে জন্য গঙ্গা ও তিস্তা—উভয় নদী নিয়েই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ অন্তর্বর্তী সরকার সম্পন্ন করে যাচ্ছে।
এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নদী আন্দোলনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে পানি সম্পদ উপদেষ্টা ও চীনা রাষ্ট্রদূত কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা সড়ক ও রেলসেতু এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলা ঘিরে তিস্তা নদীর বর্তমান গতি-প্রকৃতি ও সংকটের চিত্র তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে নৌকায় করে তিস্তা নদীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তারা।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- ১২৩তম প্রাইজবন্ড ড্র: দেখে নিন কোন নম্বরগুলো জিতল
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- ‘সিলটি’ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি
- মিমোর মৃ'ত্যু ঘিরে সর্বশেষ যা জানা গেল
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে