ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

ভূমি ও রেজিস্ট্রেশন খাতে দুর্নীতি কমাতে নয়া আইনি উদ্যোগ

২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৯:৪৩:৪৩

ভূমি ও রেজিস্ট্রেশন খাতে দুর্নীতি কমাতে নয়া আইনি উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমি ও দলিল রেজিস্ট্রেশন খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজস্ব ফাঁকি ও দায়িত্বহীনতা ঠেকাতে বড় ধরনের আইনি সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। এ লক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রেশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অর্ডিন্যান্সের খসড়ার নীতিগত চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সংশোধনীর মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার, ডেভেলপার ও দলিলদাতাদের দায়িত্ব কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় কম ফি আদায় বা জাল দলিলের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির দায় মূলত দলিলদাতা ও ডেভেলপারদের ওপর থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে বহুদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন সংশোধনীতে প্রথমবারের মতো রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সাব-রেজিস্ট্রারের ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো দলিল নিবন্ধনের সময় নির্ধারিত ফি কম আদায় হলে তার প্রাথমিক দায় সাব-রেজিস্ট্রারকে বহন করতে হবে। এতে মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সংশোধনীতে একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। যদি সাব-রেজিস্ট্রার প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি সরল বিশ্বাসে ও যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কাজ করেছেন এবং দলিলদাতা বা ডেভেলপার ইচ্ছাকৃতভাবে জালিয়াতি, তথ্য গোপন বা অন্য অনিয়ম করেছেন, তাহলে কম আদায়কৃত ফি সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করা যাবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হলো রাজস্ব ফাঁকি রোধ, সাব-রেজিস্ট্রারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আইনি সুরক্ষা প্রদান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে ভূমি ও দলিল রেজিস্ট্রেশন খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি ডেভেলপার ও দলিলদাতাদের জন্যও এটি হবে একটি কঠোর সতর্কবার্তা।

নীতিগত অনুমোদনের পর এখন অর্ডিন্যান্সটি চূড়ান্ত আইনি রূপ দিতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, সংশোধনী কার্যকর হলে ভূমি ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত