ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

বিগত তিন নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ২৩:২৮:২৩

বিগত তিন নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) ছিল পরিকল্পিত ভোট ডাকাতি এবং রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে জনমতের সম্পূর্ণ বিকৃতি।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এসব নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করা হয়েছে যে সেগুলো জাতির সামনে আসা দরকার। মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের চেহারা উন্মোচন করতে হবে। নির্বাচন ডাকাতি আর কখনো যেন না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।”

তদন্ত কমিশনের প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নেতৃত্বে তৈরি এই প্রতিবেদনে তিনটি নির্বাচনের ভিন্ন ভিন্ন অপকৌশলের কথা উঠে এসেছে:

১. ২০১৪ নির্বাচন: এই নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবশিষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিবন্ধকতাহীন’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল মূলত একটি সাজানো নাটক। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।

২. ২০১৮ নির্বাচন: ২০১৮ সালে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগকে জেতানোর এক ধরনের ‘অসৎ প্রতিযোগিতা’ লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে অনেক কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশের বেশি হয়ে গিয়েছিল।

৩. ২০২৪ নির্বাচন: বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচনে ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে বিশ্বকে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল যে এটি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন, যা ছিল মূলত একটি রাজনৈতিক অপকৌশল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি হিসেবে প্রশাসনকে ব্যবহার করা হয়েছিল। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রশাসনের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে ‘নির্বাচন সেল’ গঠন করা হয়েছিল, যা রাষ্ট্রীয়ভাবে এই অনিয়ম বাস্তবায়ন করত।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী উপস্থিত ছিলেন। কমিশন প্রতিবেদনে এই ধরনের অনিয়ম রোধে একগুচ্ছ সুপারিশমালাও তুলে ধরেছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত