ঢাকা, শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২

ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৫:৪৮:৫৮

ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা শিশুসাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

সুকুমার বড়ুয়ার কন্যা অঞ্জনা বড়ুয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন তার বাবা। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং ফুসফুসে পানি জমার কারণে চিকিৎসা চলছিল। সেখানেই শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্ম নেওয়া সুকুমার বড়ুয়া ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে মাত্র ছয় টাকায় একটি বেড়ার ঘর ভাড়া নিয়ে তিনি স্বাধীনভাবে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।

কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর ও মুকুলের মাহফিলসহ বিভিন্ন শিশু-কিশোর পত্রিকায় তার ছড়া নিয়মিত প্রকাশ পেতে থাকে। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

প্রায় ছয় দশক ধরে নিরলসভাবে ছড়া রচনার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে এক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। ব্যঙ্গ, হাস্যরস, নৈতিক শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক বার্তা—সবকিছুই তার লেখায় দক্ষতার সঙ্গে উঠে এসেছে। এই অবদানের জন্য তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়াসম্রাট’সহ নানা উপাধিতে ভূষিত হন।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার (২ খণ্ড), যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা ও জীবনের ভেতরে বাইরে।

বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। তার মৃত্যুতে বাংলা শিশুসাহিত্যে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হলো।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত