ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২
বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে যে বার্তা দিল ভারত
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানাতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে ভারত। একই সঙ্গে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় কূটনৈতিক মিশন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশার কথাও বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ডেকে পাঠানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিএম) বি শ্যাম তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
এদিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনকে কেন্দ্র করে কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী যে ধরনের নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরমপন্থী মহল যে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করছে, ভারত তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়, এসব ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করেনি এবং ভারত সরকারের সঙ্গে এ সংক্রান্ত কোনো অর্থবহ তথ্যপ্রমাণও বিনিময় করা হয়নি।
ভারত জানায়, কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার আলোকে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় কূটনীতিক, মিশন ও পোস্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। এ বিষয়ে নয়াদিল্লি জোরালোভাবে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যার ভিত্তি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার যৌথ সংগ্রামে গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত।
এদিকে, কূটনৈতিক দায়বদ্ধতার আলোকে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন প্রত্যাশাও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। তার তিন দিনের মধ্যেই নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করা হলো। একই দিনে ‘চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ বিবেচনায় রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) দুপুর ২টা থেকে বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ একাধিকবার ভারতের কাছে অনুরোধ জানালেও এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের অভিযোগ, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা-কর্মীরা দেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন এবং নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। এসব উদ্বেগ জানিয়ে গত রোববার ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে শাহজীবাজার পাওয়ার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এপেক্স ট্যানারি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং
- ইপিএস প্রকাশ করবে ৫৮ কোম্পানি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইনটেক
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা