ঢাকা, শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২
ওমরাহর অফার দিয়ে পণ্য বিক্রি: জায়েজ না নাজায়েজ?
নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানে পণ্য বিক্রির হার বাড়াতে অনেক কোম্পানি বিভিন্ন প্রণোদনামূলক কৌশল গ্রহণ করে, যার মধ্যে একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো লটারি কুপন চালু করা। এর মাধ্যমে পণ্য কিনে গ্রাহকরা বিশেষ পুরস্কার, যেমন হজ বা ওমরাহ করার সুযোগ, জয়ের সুযোগ পান। প্রশ্ন উঠেছে, এভাবে পণ্য বিক্রির সঙ্গে চালু করা লটারিতে অংশগ্রহণ করা এবং বিজয়ী হলে পুরস্কার গ্রহণ করা ইসলামি শরিয়তে জায়েজ কিনা।
ইসলামি শরিয়তে হজ বা ওমরাহর সুযোগসহ যেকোনো পুরস্কার ঘোষণা করে এ ধরনের লটারি কুপন চালু করা, তাতে অংশগ্রহণ করা, বিজয়ী হলে হজ-ওমরাহ করা বা অন্যান্য পুরস্কার গ্রহণ করা জায়েজ হবে কিনা, তা তিনটি মৌলিক শর্তের ওপর নির্ভর করে:
১. পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখা: কোম্পানিকে পণ্যের দাম বাজারে প্রচলিত স্বাভাবিক মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে। লটারির সুবিধা যুক্ত করার কারণে পণ্যের মূল্য বাড়ানো যাবে না। যদি এমনটা করা হয়, তাহলে লটারির খরচ ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা লেনদেনটিকে 'মায়সির' বা জুয়ায় পরিণত করে। পবিত্র কোরআনে মদ ও জুয়াকে নাপাক বস্তু এবং শয়তানের কাজ বলে উল্লেখ করে তা পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সূরা মায়েদা: ৯০-৯১)।
২. পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা: পণ্যের গুণগত মান যেন হ্রাস না পায়। পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করা গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার শামিল এবং ব্যবসায়িক সততার পরিপন্থী। কোরআনে ব্যবসায় ইনসাফ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাপে কম দিতে নিষেধ করা হয়েছে, যা পণ্যের গুণগত মানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য (সূরা হুদ: ৮৫)।
৩. ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বিক্রিতে লটারি ব্যবহার না করা: ত্রুটিপূর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য বিক্রির জন্য লটারি ব্যবস্থাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। যদি লটারি কুপনের মাধ্যমে গ্রাহককে এমন পণ্য কিনতে উৎসাহিত করা হয় যা সাধারণত কেউ কিনতো না, তাহলে সেটিও প্রতারণা ও ধোঁকার পর্যায়ে পড়ে। ইসলামে ধোঁকা ও প্রতারণা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, "যে ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (সহিহ মুসলিম: ১০২)।
যদি এই তিনটি শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করা হয়, অর্থাৎ পণ্যের দাম সঠিক রাখা, গুণগত মান বজায় রাখা এবং লটারি ব্যবস্থাকে প্রতারণার হাতিয়ার না বানানো হয়, তাহলে কোম্পানির পক্ষ থেকে লটারি কুপনের মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান 'হাদিয়া' হিসেবে গণ্য হবে। গ্রাহকের জন্যও তা গ্রহণ করা জায়েজ হবে এবং হজ-ওমরাহ করার সুযোগ পেলে তা করাও জায়েজ হবে। তবে, এই শর্তগুলোর কোনো একটি লঙ্ঘন করা হলে পুরো কার্যক্রমটি শরিয়ত পরিপন্থী হয়ে পড়বে এবং সেক্ষেত্রে লটারির আয়োজন, অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার গ্রহণ সবই নাজায়েজ হবে।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম নোয়াখালী এক্সপ্রেসের খেলা শুরু: দেখুন সরাসরি (LIVE)
- চলছে চট্টগ্রাম বনাম নোয়াখালীর ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- রাজশাহী বনাম নোয়াখালীর শ্বাসরুদ্ধ ম্যাচটি শেষ-জানুন ফলাফল
- বিপিএল ২০২৬: সিলেট বনাম রাজশাহী-খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- নোয়াখালী বনাম চট্টগ্রাম: জমজমাট ম্যাচটি শেষ-জেনে নিন ফলাফল
- চলছে সিলেট বনাম নোয়াখালীর ম্যাচ: দেখুন সরাসরি (LIVE)
- রংপুর রাইডার্স বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালস: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম সিলেট টাইটান্স: জমজমাট খেলাটি শেষ-জানুন ফলাফল
- আজ সিলেট বনাম রাজশাহীর ম্যাচ: সরাসরি দেখার উপায়-সময়সূচি
- রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম রংপুর রাইডার্স: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- দুবাই ক্যাপিটালস বনাম এমআই ইমিরেটস-খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- কিছুক্ষণ পর চট্টগ্রাম বনাম নোয়াখালীর ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- রংপুর বনাম চট্টগ্রামের জমজমাট ম্যাচটি শেষ: জেনে নিন ফলাফল
- ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম সিলেট টাইটান্স: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)