ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২
ঝড়ো গতিতে মুনাফা পেল সাত কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা

গত এক মাসে দেশের শেয়ারবাজারে সাতটি কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য নিয়ে এসেছে অবিশ্বাস্য মুনাফা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে আইএসএন লিমিটেড। মাত্র এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারমূল্য বেড়েছে ১৪৪.৩৯ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে এক বিরল ঘটনা।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানির মৌলভিত্তি খুব বেশি শক্তিশালী না হলেও বিনিয়োগকারীদের অস্বাভাবিক আগ্রহই এর দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। তবে তারা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত দামে কেনাবেচা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সোনালী পেপার: গত এক মাসে সোনালী পেপারের শেয়ারমূল্য বেড়েছে ৮৪.৫৫ শতাংশ। স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং নানা জল্পনা-কল্পনার কারণে এমন উল্লম্ফন ঘটেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোম্পানির ব্যবসার বিস্তার এবং বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রভাবও এই বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
জিকিউ বলপেন: জিকিউ বলপেনের শেয়ারও এক মাসে ৮১.৩৯ শতাংশ বেড়েছে। যদিও কোম্পানিটির মূল ব্যবসা স্থিতিশীল, সীমিত সংখ্যক শেয়ার এবং বাজারের গুজব এর দাম হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি তাৎক্ষণিক মুনাফার সুযোগ তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অন্যান্য লাভজনক কোম্পানি: এই তালিকায় আরও রয়েছে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স — মুনাফা দিয়েছে ৫৭.২৮ শতাংশ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স — মুনাফা দিয়েছে ৫৬.৪৬ শতাংশ, ওরিয়ন ইনফিউশন — মুনাফা দিয়েছে ৫৩.৭১ শতাংশ এবং সমতা লেদার — মুনাফা দিয়েছে ৪৮.৭৬ শতাংশ। বিশেষ করে বিমা খাতের ইতিবাচক প্রবণতা বাজারে নতুন করে আস্থা তৈরি করেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা সম্প্রতি যেসব কোম্পানির শেয়ারমূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, সেগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, এই দ্রুত উত্থান প্রায়শই মৌলভিত্তির চেয়ে বেশি বাজার জল্পনা ও বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত আগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। তবে এই প্রবণতাকে পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখারও সুযোগ নেই। অভিজ্ঞ এবং দক্ষ বিনিয়োগকারীদের জন্য এমন দ্রুতগতিতে বেড়ে চলা স্টকগুলো অসাধারণ মুনাফার সুযোগ এনে দিতে পারে, যদি তারা বাজারের গতিবিধি সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেন।
এই ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকলেও, সঠিক গবেষণা ও কোম্পানির ভবিষ্যতের সম্ভাবনা যাচাই করে যদি কোনো বিনিয়োগকারী প্রবেশ করেন, তাহলে তিনি স্বল্প সময়ে আরও রিটার্ন পেতে পারেন। এই উত্থান প্রমাণ করে যে, শেয়ারবাজার এখনও প্রাণবন্ত এবং সঠিক সুযোগে বিনিয়োগ করলে বড় ধরনের লাভ করা সম্ভব। তবে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করা জরুরি। শুধু দাম বৃদ্ধির পেছনে না ছুটে, কোম্পানির ব্যবসায়িক ভিত্তি, আয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে বিনিয়োগ করা উচিত। এটি তাদের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি বাজারে একটি টেকসই এবং শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সাহায্য করবে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আইসিবি’র বিশেষ তহবিলের মেয়াদ ২০৩২ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- দুই খবরে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারের চমক
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- ২৩ আগস্ট : শেয়ারবাজারের সেরা ৮ খবর
- হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতারণা, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই
- বিএসইসির নতুন মার্জিন বিধিমালার খসড়া অনুমোদন
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ারদর: ডিএসইর সতর্কবার্তা
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা
- শেয়ারবাজারের জন্য সুখবর: কমছে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ
- তিন শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ারবাজারে রেকর্ড: বছরের সর্বোচ্চ দামে ১৭ কোম্পানি