ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
এক ছাত্রী তিনবার মেধাতালিকায়
ডুয়া নিউজ : সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ডিজিটাল লটারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এই ফল প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ফলে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার এক ছাত্রীকে তিনবার মেধাতালিকায় রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকরা ভর্তির লটারিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
ফলাফলে দেখা গেছে, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার দ্বিতীয় শ্রেণিতে মর্নিং শিফটে ইংলিশ ভার্সনে রুবাইতা বিনতে রুবেল নামে এক শিক্ষার্থীকে মেধাতালিকায় দুবার রাখা হয়েছে। তাছাড়া একই শ্রেণির বাংলা ভার্সনের মর্নিং শিফটেও ওই শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় রয়েছে।
ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা ভার্সনে মর্নিং শিফটে রুবাইতা সাধারণ কোটায় ৯৬তম হয়েছে। একই শ্রেণিতে ইংলিশ ভার্সনের মর্নিং শিফটে সে সাধারণ কোটায় ১৫ ও ১৯তম স্থানে রয়েছে। তার বাবার নাম মো. রুবেল ও মায়ের নাম সুলতানা জাকের। সব জায়গায় তার একই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বাবা-মায়ের নামও একই। তবে তিন জায়গায় তিনটি ভিন্ন মোবাইল নম্বর রয়েছে। জন্মনিবন্ধনের নম্বরও ভিন্ন।
এ বিষয়ে রুবাইতার বাবা মো. রুবেল গণমাধ্যেমকে বলেন, ‘আমরা দুই শিফটে দুটি আবেদন করেছিলাম। সেটার নিয়ম আছে। কিন্তু ইংলিশ ভার্সনে কেন দুবার নাম এসেছে, তা আমি জানি না।’ তিন জায়গায় তিনটি জন্মনিবন্ধন নম্বর কেন ব্যবহার করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। আমার ভাই হয়তো আরেকটা ভিন্ন নম্বর দিয়ে আবেদন করতে পারে। আমরা কোনো অনিয়মের আশ্রয় নিইনি। আমার মেয়ে সব কাগজপত্র স্কুলে জমা দিয়েছে। ভর্তি হবে।’
তবে ওই ছাত্রীর অভিভাবকরা স্কুলে কাগজপত্র জমা দিয়ে এলেও তা অনুমোদন করেননি শিক্ষকরা। রুবাইতা যে ইংলিশ ভার্সনে দুইবার মেধাতালিকায় এসেছে, সেই ভার্সনের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা কাগজপত্র জমা নিয়েছি। তবে সেটি অনুমোদন করিনি। এটা সন্দেহজনক হওয়ায় তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
এক স্কুলে তিনবার নাম আসা আদৌ সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এ সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘এটা প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট যে, প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট বানিয়ে একাধিক আবেদন করা হয়েছে। এটা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এটা খুব খারাপ ও গর্হিত কাজ।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘লটারির পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারে করা হয়। এখানে অনিয়মের সুযোগ নেই। তবে কিছু ত্রুটি হতে পারে। সেটা আমরা জানতে পারলে ব্যবস্থা নেব।’
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘লটারি প্রক্রিয়াটি সরকারের ভালো উদ্যোগ। এ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি চক্র তৎপর। সেখানে শিক্ষকরাও জড়িয়ে পড়েছেন। তারা অভিভাবকদের নানা কু-পরামর্শ দিয়ে অনিয়মে উদ্বুদ্ধ করেন। সেজন্য আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে যেসব অনিয়ম পাওয়া যাবে, তাতে কারা জড়িত তা চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষক-অভিভাবক যারাই জড়িত থাকুক, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- BANZI নির্বাচন: জয়-পরাজয়ের বাইরে কমিউনিটির আমানত ও প্রত্যাশা
- ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রকাশ
- মায়ের সঙ্গে ইয়ামালের নাচের ভিডিও ভাইরাল
- প্রজ্ঞাপনের আগে পে স্কেলের বেতন তালিকা
- ব্র্যাক ব্যাংকে চাকরি, আবেদন ৩০ আগস্ট পর্যন্ত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- তেজগাঁও কলেজে মঞ্চে উঠছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’
- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দুই পদে চাকরির সুযোগ
- এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলির আবেদন শুরু ৩০ আগস্ট
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- এলএলবি প্রথম পর্বের ফরম পূরণ শুরু বৃহস্পতিবার
- রংপুরের হত্যাকাণ্ডে যৌক্তিক সময়ে অপরাধীরা গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বাসায় ঢুকে মডেলকে কুপিয়ে হ'ত্যা
- ৩৫০০ টাকায় পর্নোগ্রাফির ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ দিতেন সুমাইয়া