×

ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ডিজিটাল বিবাহ-তালাক নিবন্ধনে বাল্যবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ হবে: আইনমন্ত্রী

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৬:২৬:০২

ডিজিটাল বিবাহ-তালাক নিবন্ধনে বাল্যবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ হবে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদ ও বিবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই ব্যবস্থায় জনগণ দ্রুত বিবাহ ও তালাকের তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন ও বিচার বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প এবং ব্র্যাকের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সামনে যদি কোনো ইনোভেটিভ আইডিয়া আসে, সেটাকে আমরা গ্রহণ করে জনকল্যাণের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’ ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হবে। এই পাইলট উপজেলাগুলো হলো—কালীগঞ্জ (গাজীপুর), টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), ঝিনাইগাতী (শেরপুর), সদর (কুড়িগ্রাম), সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা), সদর (নড়াইল), কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সদর (সিলেট), চকরিয়া (কক্সবাজার) ও সদর (কিশোরগঞ্জ)।

প্রকল্পের আওতায় জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে বয়স ও পরিচয় যাচাই করা হবে। এর ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি গোপন বিবাহ, বহুবিবাহ ও জালিয়াতি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিবাহ ও তালাকের তথ্য রিয়েল-টাইমে সংরক্ষণ এবং দ্রুত ডিজিটাল সনদ প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রকল্পে।

প্রকল্পের কারিগরি অগ্রগতির কথা জানিয়ে বলা হয়, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের উন্নয়ন কাজ ইতিমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার বরাদ্দ নেওয়ার পাশাপাশি জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগও স্থাপন করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইসও পরীক্ষামূলকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ১১ কোটি টাকা। চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত