ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে ১১ দলের হুঁশিয়ারি, ছয় দফা না মানলে এক দফা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চে জনগণের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছে বলে দাবি করেছেন জোটের নেতারা। তাঁরা ঘোষিত ছয় দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নে সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও তিনটি লংমার্চ শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ছয় দফা বাস্তবায়ন না হলে তা এক দফায় পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে শান্তিপূর্ণ লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে ১১ দলীয় ঐক্য। সকাল ৭টায় ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হয়।
পথিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে নির্ধারিত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর বাইরে কয়েকটি অনির্ধারিত পথসভাও হয়। পরে রাত ৯টায় চট্টগ্রামের লালদীঘিতে পৌঁছায় লংমার্চের বহর। সেখানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পরিভ্রমণে লংমার্চে ছিল কঠোর শৃঙ্খলা-এমনটাই দাবি আয়োজকদের। হাজার হাজার গাড়ির বহরে কোথাও জটলা তৈরি হয়নি। তবে রাস্তার দুই পাশে লাখো মানুষের ভিড় থাকায় ধীরগতিতে এগোতে হয়েছে লংমার্চকে। মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কর্মসূচি দেখেছেন। তাঁদের হাতে ছিল লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা, দলীয় প্রতীক ও লা-ইলাহার পতাকা। পাশাপাশি ছয় দফার বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুনও দেখা যায়।
অনেকের হাতে ছিল ফুল। লংমার্চের গাড়ির ওপর ফুল ছিটিয়ে অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান তাঁরা। তাঁদের মুখে ছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে নানা স্লোগান। একই সঙ্গে জনগণের নিত্যদিনের সমস্যা সমাধানের দাবিতেও নানা স্লোগান দেন তাঁরা।
আয়োজকেরা জ্বালানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যানবাহনের সংখ্যা এক হাজারে সীমিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। শেষ মুহূর্তে বিশেষ অনুরোধে স্টিকার সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে আরও ২০০ বাড়ানো হয়। এরপরও নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে আরও প্রায় তিন গুণ গাড়ি লংমার্চের বহরে যুক্ত হয়। এতে একটি এলাকা অতিক্রম করতেই আধা ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।
বড় কর্মসূচিতে খাবার বিতরণ নিয়ে সাধারণত নানা জটিলতা ও অভিযোগ থাকলেও ১১ দলের এই দীর্ঘ লংমার্চে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে বলে আয়োজকেরা জানান। সকালের নাশতার ব্যবস্থা নিজেদের উদ্যোগে করার ঘোষণা থাকলেও প্রতি গাড়ির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আগেই খাবারের ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। কোনো গাড়িতে ছিল পাউরুটি ও কলা, আবার কোনো গাড়িতে পরোটা ও ডালভাজি। কোনো কোনো গাড়ির দায়িত্বশীল নেতা বাসা থেকে রুটি, গরুর মাংস ও ডালভাজি নিয়ে এসেছিলেন সহযাত্রীদের জন্য।
লংমার্চ কুমিল্লা শহরে পৌঁছানোর আগেই নির্দিষ্ট একটি স্থানে বহর থামিয়ে প্রতিটি গাড়িতে যাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী দুপুরের খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়। খাবার না পাওয়ার কোনো অভিযোগ ছিল না বলে আয়োজকেরা জানান। সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছানোর আগেই শহরের প্রবেশমুখে প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে রাতের খাবারও দেওয়া হয়। কোথাও কোনো অভিযোগ বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি বলে তাঁরা জানান।
ঢাকার শাপলা চত্বর ও চট্টগ্রামের লালদীঘি ছাড়াও আরও পাঁচটি নির্ধারিত এবং দুটি অনির্ধারিত পথসভায় ১১ দলের শীর্ষ নেতারা ছয় দফা দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে তাঁরা সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ছয় দফা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে এবং তা সরকারের পতন ডেকে আনবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান নিজেও এসব দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশ ও পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদকেও নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে। ওয়াদা দিয়ে তা লঙ্ঘন করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথে থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় রক্ত ঢেলেছিলেন আপনাদের সঙ্গীরা। তাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি। সেই দাবি পূরণ করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। ইনশাআল্লাহ, দাবি পূরণ করে ঘরে ফিরব।’
গণভোটের রায় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করার জন্য। রাস্তায় নেমেছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করার জন্য। আমরা রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে গ্যাস ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য।’
পথসভাগুলোতে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান, গ্যাস পান? চাঁদাবাজি হয় কিনা?’ দেশ মাদকে ছেয়ে গেছে কিনা, মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না খারাপ-এসব বিষয়েও তিনি জানতে চান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের এসব মৌলিক দাবি পূরণ না হলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করে তিনি বলেন, অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে কঠিন পরিণতি বরণ করতে হবে।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বিদ্যুৎ দে, গ্যাস দে-নইলে গদি ছেড়ে দে’-এই স্লোগান তাঁর। তিনি এবং তাঁর দলকে এখন এই স্লোগান বাস্তবায়ন করতে হবে।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং দেশকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিতে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। লংমার্চের মধ্য দিয়ে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১১ দলের শীর্ষ নেতাদের এসব বক্তব্য সরকারকে নতুন সতর্কবার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি সাড়া পেয়েছি লংমার্চে। আশা করি, সরকার এ থেকে নতুন বার্তা পেয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে পরিণতি কী হতে পারে সরকার তা বুঝতে সক্ষম হবে। অন্যথা কী হবে, সেটা ভবিষ্যতই বলে দেবে।’
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- জিয়া উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- নতুন পে-স্কেলে কত বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-ভাতা?
- মাসে ২৫০০ টাকা বৃত্তি দেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, জানুন আবেদন পদ্ধতি
- তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাত করতে চান ট্রাম্প
- নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের তারিখ চূড়ান্ত, জানালেন অর্থসচিব
- নতুন প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ঘরে ঘরে সচেতনতা জরুরি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১ সেপ্টেম্বর)