ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিনা চিকিৎসায় কোনো নাগরিক মারা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ২১ ২১:১৩:৫৩

বিনা চিকিৎসায় কোনো নাগরিক মারা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে বিনা চিকিৎসায় কোনো নাগরিক মারা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে কেউ অবহেলিত থাকবে না।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবাকে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় সহজলভ্য করা এবং বিনা চিকিৎসায় যেন কেউ মারা না যায়, তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সততা ও সরলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, অনেকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য অনেক কিছুর তুলনা করতে চান। কিন্তু একবার ভেবে দেখতে হবে, একাত্তর আমাদের কী দিয়েছে। তার ভাষায়, কুদ্দুস ভাইদের মতো বীর মানুষরা দেশের মানুষকে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, স্বাধীন সরকার এবং সর্বোপরি অমূল্য সার্বভৌমত্ব উপহার দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সেদিন যদি মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে তুলে না নিতেন এবং পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকারদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লড়াই না করতেন, তাহলে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বই থাকত না। আজকের মন্ত্রী, সচিব, রাষ্ট্রদূত, সেনাপ্রধান কিংবা হাজারো চিকিৎসকের জন্মও এই স্বাধীন বাংলাদেশে হতো না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি সেখানে কোনো চিকিৎসকের পরিচয়ে নয়, বরং একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধকালীন ৯০ সদস্যের একটি দলের কমান্ডার হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। একাত্তরের যুদ্ধের ভয়াবহতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে যাওয়ার সময় রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান জানাতে টিন ও বাসন পিটিয়ে সংকেত দিত। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে মুক্তিযোদ্ধারা সতর্ক হন।

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে অগ্নিসংযোগ, নিরীহ মানুষ হত্যা এবং নারীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের বহু ঘটনা তিনি নিজ চোখে দেখেছেন। বিলোনিয়া সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে এক তরুণীর ওপর চালানো নির্মম নির্যাতনের ঘটনাও তিনি স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

ফের বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর ফলে... বিস্তারিত