ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
আ.লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক আদেশে নয়, আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁকবদলের দিন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্যক্তি ও সংগঠন-উভয়ের বিচার করা সম্ভব। তার ভাষ্য, আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই ফ্যাসিবাদী সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হওয়া উচিত। প্রশাসনিক আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে তারা নন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব অবৈধভাবে সরকার পরিচালনা করেছে এবং দলটির নেতাকর্মীদের মাধ্যমেই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এ কারণে সংগঠন হিসেবেও আওয়ামী লীগকে দায় নিতে হবে।
নুরেমবার্গ ট্রায়ালের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেভাবে হিটলারের সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশেও তেমন একটি আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তার দাবি, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, যা বিশ্বে বিরল ঘটনা। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনার পরও আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই; বরং তারা জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্র হত্যা, রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা এবং একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী শক্তির উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যেই রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক সংগঠনের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল দেশের আপামর জনগণের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা আন্দোলন। ফ্যাসিবাদবিরোধী এই ঐক্য ধরে রেখে শহীদদের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন ফ্যাসিবাদী আচরণ করতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানান।
বক্তব্যের শেষাংশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১-এর শহীদ এবং জুলাইয়ের শহীদরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান জিন্দাবাদ, জুলাই স্মৃতি আমাদের শক্তির উৎস হোক।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- বিমান বাহিনীতে ৪৫ ক্যাটাগরিতে ৩৪২ শূন্যপদে চাকরির সুযোগ
- শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেবে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে
- ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, ৫৮ জন শনাক্ত
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- পরীক্ষা ছাড়া একাদশে ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৭ পদে নিয়োগ
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের অভিনন্দন
- বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে
- রঞ্জন কর্মকারের মৃ'ত্যুতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শোক প্রকাশ
- সমকামিতার অভিযোগে ঢাবির দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
- প্রথম দিনেই বাজিমাত জিতের নতুন সিনেমার
- মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেবে ডিবিএল গ্রুপ