ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রশ্ন কঠিনের অভিযোগে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা

২০২৬ জুলাই ১১ ১৯:৩২:২৩

প্রশ্ন কঠিনের অভিযোগে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের প্রশ্ন কঠিন হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভোলার চরফ্যাশনে ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে ভাঙচুর করেছেন একদল এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

শনিবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হুমায়ুন শিকদার কবির, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম রাসেলসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীও রয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্র জানায়, বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটক, সাইনবোর্ড, দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন।

ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, পরীক্ষায় অসাধুপায় অবলম্বনের সুযোগ না দেওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, একদিকে প্রশ্নপত্র কিছুটা কঠিন ছিল, অন্যদিকে কক্ষ পরিদর্শকেরা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। পরীক্ষা শুরুর পর থেকেই কিছু শিক্ষার্থী কক্ষ পরিদর্শকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। পরীক্ষা শেষে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে, কলেজের গেট ভেঙে ফেলে এবং লোহার পাইপ নিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা কক্ষ ও শিক্ষক কক্ষে হামলা চালায়।

তিনি আরও জানান, হামলায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী ও বহিরাগত অংশ নেয়। ওই কেন্দ্রে সরকারি চরফ্যাশন কলেজের ৭৮৪ জন শিক্ষার্থী আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল।

শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষার্থীদের দাবি, প্রশ্নপত্র কঠিন ছিল এবং অনেক প্রশ্ন কমন পড়েনি। পাশাপাশি কক্ষ পরিদর্শকদের রূঢ় আচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, একদল পরীক্ষার্থী ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হলে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী সোহেব হোসেন জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজ গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। পরে উত্তর ও পশ্চিম পাশের দুটি গেট ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় শিক্ষকরা আতঙ্কিত হয়ে একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ধাওয়া করে।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে এসে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের সরে যেতে আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরীক্ষার উত্তরপত্র ডাকঘরে জমা দেয়। ওসি জানান, এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এদিকে পরীক্ষা কমিটির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের উসকানি দেওয়া হয়েছিল।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফের বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন... বিস্তারিত