ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
ওষুধ খাতে নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, গঠিত হলো জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ওষুধ খাতে নীতি সমন্বয়, উৎপাদন ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য করতে নতুন একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। ‘জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ’ নামে এই পরিষদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
রবিবার (২২ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে তা বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
২২ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি, নেতৃত্বে মন্ত্রী
নতুন এই পরিষদে মোট ২২ জন সদস্য রাখা হয়েছে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এছাড়া কমিটিতে রয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।
অর্থ, রাজস্ব, আইন, খাদ্য, শিল্প, বিদ্যুৎ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সচিবরাও এই কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরাও রয়েছেন এতে।
ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সভাপতিরাও এই পরিষদে জায়গা পেয়েছেন।
ওষুধনীতি বাস্তবায়ন ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরি
এই পরিষদের মূল দায়িত্ব হবে জাতীয় ওষুধনীতি বাস্তবায়নে সরকারকে দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং ওষুধ শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়ে পরামর্শ দেবে তারা।
এছাড়া অ্যালোপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি—সব ধরনের ওষুধের মধ্য থেকে ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা’ তৈরি এবং তা প্রতি দুই বছর পরপর হালনাগাদ করার সুপারিশও করবে এই পরিষদ।
ওষুধ ও এর কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নীতিগত দিকও দেখবে এই কমিটি। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ওষুধ ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়েও তারা কাজ করবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভায় বসবে। প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে আরও সভা আহ্বান করা যাবে। কাজের প্রয়োজনে যেকোনো বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কো-অপ্ট সদস্য হিসেবে যুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
দেশের ওষুধ খাতে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও নীতিগত সমন্বয়ের ঘাটতির মধ্যে এই নতুন পরিষদ গঠিত হলো। এখন এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও স্বচ্ছতার ওপর-এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃ/ত্যুতে রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে: রিজভী