ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

যেভাবে ইংল্যান্ডের ইতিহাস বদলে দিলেন হ্যারি কেইন

২০২৬ জুন ১৯ ১৮:৫০:৪৭

যেভাবে ইংল্যান্ডের ইতিহাস বদলে দিলেন হ্যারি কেইন

স্পোর্টস ডেস্ক: যে ফুটবলারকে একসময় বড় তারকা হওয়ার মতো প্রতিভাবান মনে করা হয়নি, সেই হ্যারি কেইনই আজ ইংল্যান্ড ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলোর একটি। সন্দেহ, সমালোচনা ও বারবার নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই পেরিয়ে তিনি এখন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক, দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং বিশ্বের অন্যতম সফল স্ট্রাইকার।

১৯৯৩ সালের ২৮ জুলাই লন্ডনের লেইটনস্টোনে জন্ম নেওয়া কেইনের ফুটবল যাত্রা শুরু হয় স্থানীয় পর্যায়ে। শৈশবে বিভিন্ন একাডেমিতে ঘোরার পর শেষ পর্যন্ত তিনি টটেনহ্যাম হটস্পারের বয়সভিত্তিক দলে জায়গা করে নেন। তবে শুরু থেকেই তার পথ সহজ ছিল না। অনেকের মতে, তিনি ছিলেন ধীরগতির এবং বড় মাপের ফুটবলার হওয়ার মতো স্বাভাবিক প্রতিভার অধিকারী নন।

পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কেইনকে একাধিকবার ধারে খেলতে পাঠানো হয়। লেইটন ওরিয়েন্ট, মিলওয়াল, নরউইচ সিটি ও লেস্টার সিটির হয়ে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্তরের ফুটবলে খেলেছেন তিনি। তখন খুব কম মানুষই বিশ্বাস করতেন, এই ফুটবলার একদিন ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হবেন।

তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০১৪-১৫ মৌসুমে। টটেনহ্যামের মূল দলে নিয়মিত সুযোগ পেয়ে মৌসুম শেষ করেন ৩১ গোল করে। সেই মৌসুমেই তিনি বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন। এরপর থেকে গোল করা যেন তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়।

ক্রমাগত গোল করে তিনি শুধু টটেনহ্যামের আস্থার প্রতীকই হননি, গড়েছেন একের পর এক রেকর্ডও। একাধিক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের মধ্যে ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে ক্যালেন্ডার বছরে গোলসংখ্যার দিক থেকে ইউরোপে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও ছাড়িয়ে যান।

টটেনহ্যামের হয়ে ২৮০ গোল করে তিনি ক্লাবের দীর্ঘদিনের বহু রেকর্ড ভেঙেছেন। পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়ও নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।

জাতীয় দলের হয়ে তার যাত্রাটাও ছিল স্মরণীয়। ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচে মাঠে নেমে মাত্র ৭৯ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত হন এবং অধিনায়কের দায়িত্বও পান।

২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে রাশিয়ার মাটিতে ছয় গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে উয়েফা ইউরো ২০২০-এ দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন।

২০২৩ সালে টটেনহ্যাম ছেড়ে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন কেইন। বুন্দেসলিগার ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্রান্সফার হিসেবে বিবেচিত হয় এই দলবদল। প্রথম মৌসুমেই ৩৬ গোল করে জেতেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। পরের মৌসুমে অর্জন করেন ক্যারিয়ারের প্রথম বড় শিরোপা।

বর্তমান সময়ের কেইন শুধু একজন গোলদাতা নন। আক্রমণ গড়া, বল বিতরণ, নিচে নেমে খেলা তৈরি করা এবং সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রেও সমান দক্ষ। এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক তাকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ‘নাম্বার নাইন’দের একজন হিসেবে বিবেচনা করেন।

চলমান বিশ্বকাপেও নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করে দলকে ৪-২ ব্যবধানে জিতিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন এবং বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে সর্বাধিক গোল করার নতুন রেকর্ডও গড়েছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা... বিস্তারিত