ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লাভেলোর নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে বিএসইসি

২০২৬ জুন ০৬ ২৩:২১:৪৯

লাভেলোর নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে বিএসইসি

অর্থনীতি ডেস্ক: শেয়ারবাজারে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে তালিকাভুক্ত ব্র্যান্ড লাভেলো আইসক্রিমের (তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসি) বিগত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের অসংগতি ও হিসাবের গরমিল খুঁজে পেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অভিযোগ উঠেছে, দেশের নামকরা দুটি নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিষ্ঠান ও তাদের সংশ্লিষ্ট পার্টনাররা কোম্পানির উদ্যোক্তাদের সাথে যোগসাজশ করে এই আর্থিক অনিয়মে সরাসরি ইন্ধন জুগিয়েছেন। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত অডিটরদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ঠিক কী ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিরোধমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা জরুরি ভিত্তিতে জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দেশের হিসাববিদদের শীর্ষ দুই পেশাজীবী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা— ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশকে (আইসিএবি)-এর কাছে এ বিষয়ে বিএসইসি সম্প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। নিরীক্ষা কার্যক্রমে এমন গুরুতর অনিয়ম ও অসাধু উপায়ের আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি এই দুই সংস্থাকে বিশদভাবে অবহিত করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লাভেলো আইসক্রিমের ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষার দায়িত্বে ছিল ‘ইসলাম কাজী শফিক অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’ (এবং তাদের পার্টনার কাজী শফিকুল ইসলাম) এবং ‘কাজী জহির খান অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’ (এবং তাদের পার্টনার নুরুল হোসেন খান)।

অভিযোগ রয়েছে, এই পাঁচ বছর ধরে চলা অডিট কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা চরম পেশাগত অসদাচরণের আশ্রয় নিয়েছেন। তারা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য গোপন করেছেন অথবা কৃত্রিমভাবে একটি মনগড়া আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করতে সহায়তা করেছেন। বিষয়টি বিএসইসির নিজস্ব তদন্তে ধরা পড়ার পর এই দুই অডিট ফার্মের সার্বিক সততা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম গণমাধ্যমকে বলেন, "লাভেলো আইসক্রিমের নিরীক্ষকদের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছে কমিশন। তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"

বিএসইসি তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং তাদের সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষকদের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখার অংশ হিসেবেই এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযুক্ত অডিট ফার্ম ও তাদের পার্টনারদের কাজের মানদণ্ডে ঘাটতি এবং আর্থিক প্রতিবেদনের নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টি এখন খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্ক্যানারে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কোনো শাস্তিমূলক, প্রয়োগমূলক বা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে তা দ্রুত কমিশনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়, সিকিউরিটিজ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা এবং পুঁজিবাজারের সামগ্রিক ঝুঁকি মূল্যায়নের বৃহত্তর স্বার্থেই এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থার মূল ভিত্তি হলো একটি কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, কিছু তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের ধোঁকা দিতে নিরীক্ষকদের হাত করে কৃত্রিম বা অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখায়। যখন খোদ নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার ভেতরেই এমন সুনির্দিষ্ট অনিয়ম বা পেশাগত ব্যর্থতার গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন স্বভাবতই পুরো পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসন বড় ধরনের কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ায়।

তবে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ জানতে এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

শেয়ারবাজার এর অন্যান্য সংবাদ

ফের কমেছেসোনার দাম

ফের কমেছেসোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে... বিস্তারিত