ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে’

২০২৬ জুন ০১ ১৮:২০:৩২

‘ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান নিয়ে তার মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে সমালোচনার মুখে তিনি নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করলেও বিষয়টি ঘিরে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতর্ক এখনো চলমান রয়েছে।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, দেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যাত্রা শুরু হয়েছে ১৯৯২ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে। ফলে তাদের সেই দীর্ঘ ঐতিহাসিক পটভূমি না থাকলেও তারা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সব ক্ষেত্রেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য অবদান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের বড় একটি অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। একইভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও এসব প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও সময়ের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হলেও পরবর্তীতে তা দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ফ্যাসিবাদের পতনের পেছনে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার কখনোই পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে না। বরং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক শিক্ষার্থী এক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শেষ করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার চিত্রই ফুটে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেধাবী, দক্ষ এবং যোগ্য নাগরিক গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে। নতুন প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে তারা এমন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে কোনো শিক্ষার্থীকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়ে মূল্যায়ন করা হবে না। বরং সততা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সরকারের নীতিগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত