ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আদ্–দ্বীনে মারা যাওয়া শিশুর কক্ষে কী ছিল, জানালেন স্বাস্থ্যের ডিজি

২০২৬ মে ২৭ ১৫:৪৮:১৭

আদ্–দ্বীনে মারা যাওয়া শিশুর কক্ষে কী ছিল, জানালেন স্বাস্থ্যের ডিজি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্–দ্বীন হাসপাতালে মারা যাওয়া ছয় নবজাতক যে কক্ষে ছিল, সেখানে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মতো পরিস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। বুধবার (২৭ মে) দুপুরে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ তথ্য জানান।

এর আগে সকালে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড-২ এ ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শিশুদের অধিকাংশের বয়স ছিল এক থেকে দুই দিন।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি জানান, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোরের দিকে এসি–সংক্রান্ত জটিলতা অথবা অন্য কোনো কারণে ওই কক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তদন্তে কারও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাসলাইনের লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। রমনা থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, এখনো ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ফরেনসিক টিমও কাজ করছে।

ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে শোকাহত। একসঙ্গে ছয় নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাদের নিউনেটাল আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে ১০১টি শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে নেওয়ার পর একজনকে ব্রট ডেড ঘোষণা করা হয় এবং আরেকজন ছিলেন আশঙ্কাজনক অবস্থায়। বাকি চারজনকে ভেন্টিলেটরে রেখে চিকিৎসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এসি বন্ধ ছিল বা গ্যাস লিকেজ হয়েছে এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। তার দাবি, শুরুতে এসি চালু ছিল। ওই ওয়ার্ডে মোট ১১ জন মা ও নবজাতক ছিলেন। এর মধ্যে ছয়জন ওই কক্ষে ছিলেন এবং বাকি পাঁচজন আগে থেকেই এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বজনদের অনুরোধে রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কিছু সময়ের জন্য এসি বন্ধ রাখা হলেও পরে আবার চালু করা হয় বলে জানান তিনি।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, পোস্ট অপারেটিভ রুমে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহত শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে দুই দিনের মধ্যে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

সাত দিনের ছুুটিতে সীমিত পরিসরে আজও খোলা ব্যাংক

সাত দিনের ছুুটিতে সীমিত পরিসরে আজও খোলা ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও পুরোপুরি বন্ধ থাকছে না দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ... বিস্তারিত