ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল, সংসদে বিল পাস
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদ সদস্যদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা অবশেষে বাতিল করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি সংশোধনী বিল আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে এ বিশেষ সুবিধার অবসান ঘটল।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘দি মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অলাউন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ উত্থাপন করেন। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
বিলটি পাস হওয়ায় ১৯৭৩ সালের সংশ্লিষ্ট আদেশের আর্টিকেল থ্রি-সি বিলুপ্ত হয়েছে, যা এতদিন সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির আইনি সুযোগ প্রদান করত।
বিল উপস্থাপনের সময় আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা নেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি এটি সাধারণ করদাতা নাগরিকদের সঙ্গে দৃশ্যমান বৈষম্য সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সঙ্গে সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ সংশোধনী আনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিশেষ সুবিধাটি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছিল।
রোববার পাস হওয়া বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনটি ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামে পরিচিত হবে এবং তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের সেবা করার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যক্তিগত নামে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করা সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে এটি কর প্রদানকারী সাধারণ মানুষের সঙ্গে একটি স্পষ্ট বৈষম্য তৈরি করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংসদ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সংসদ সদস্যদের এই সুবিধা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সঙ্গে সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আর্টিকেল থ্রি-সি বিলুপ্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিলের কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি অর্থ বিল এবং সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য রাষ্ট্রপতির সুপারিশ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলই জানিয়েছিল, তারা শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা নেবে না। ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর শুরুতে সংসদ সদস্যদের জন্য এ ধরনের সুবিধা চালু ছিল না। ১৯৮৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর আমলে চতুর্থ সংসদ নির্বাচনের পর এটি চালু করা হয়। ২০২৪ সালের বাজেটেও এই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব উঠেছিল, যদিও তখন কয়েকজন সংসদ সদস্য আগের মতোই শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ বহাল রাখার পক্ষে মত দেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে নতুন ঘোষণা হাসিনার
- মাসিক ১,৪০০ ইউরো স্টাইপেন্ডসহ ইউরোপে মাস্টার্সের সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৬ সেপ্টেম্বর)