ঢাকা, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২
এক মাসে বিএনপি সরকারকে ঘিরে শতাধিক অপতথ্য: রিউমর স্ক্যানার
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই অপতথ্যের স্রোতে বেশ চাপে পড়েছে বর্তমান প্রশাসন। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নানা ধরনের ভুল ধারণা তৈরি করছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই শতাধিক আসনে বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ইতোমধ্যে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পূর্তি হয়েছে। তবে এই সময়ে সরকারকে অন্যান্য চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি নানা অপতথ্যের মোকাবেলাও করতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এসব অপতথ্য সরকারকে বিব্রত করেছে বারবার। বিরোধী বলয়ের লোকজন এসব অপতথ্য ছড়িয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করেছে।
শনিবার (২২ মার্চ) সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম এক মাসের ভুল ও অপতথ্য বিশ্লেষণ করে তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিএনপি সরকারকে জড়িয়ে গত এক মাসে শতাধিক অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এর বেশির ভাগই নেতিবাচক।
ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানটি ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ মার্চ ২০২৬ (৩০ দিন) সময়ের মধ্যে এসব অপতথ্য চিহ্নিত করেছে। এসব অপতথ্যের ৭৬ শতাংশই নেতিবাচক উপস্থাপন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অপতথ্যের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার বিরুদ্ধে ছড়ানো হয়েছে ৪৫টি অপতথ্য। এর মধ্যে ৫৮ শতাংশই নেতিবাচক উপস্থাপন।
মন্ত্রিপরিষদের বিরুদ্ধে ৩৩টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এর ৯৮ শতাংশেই নেতিবাচক উপস্থাপন। মন্ত্রীদের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ৮টি, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৫টি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ৪টি, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে ৩টি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ৩টি, সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের বিরুদ্ধে ২টি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বিরুদ্ধে ২টি।
এছাড়া প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে ২টি, শামা ওবায়েদের বিরুদ্ধে ১টি, ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের বিরুদ্ধে ১টি, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ১টি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১টি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে ১টি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ১টি অপতথ্য ছড়ানো হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারের বিরুদ্ধে একটি অপতথ্য ছড়ানো হয়।
এসব অপতথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভুয়া বক্তব্য ৪৬টি, ভুয়া ফটোকাৰ্ড ১৮টি, সার্কাজম পেজের পোস্ট ২৭টি, এআই কনটেন্ট ১১টি, পুরোনো ছবি-ভিডিও ৫টি, সম্পাদিত ছবি ২টি।
এই পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তথ্য যাচাই না করে কিছু শেয়ার করার প্রবণতা কমানো এবং সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় অপতথ্যের এই প্রবাহ ভবিষ্যতেও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যেতে পারে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- স্বামী ও সন্তানকে ঘরে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্ম/হত্যা
- ঈদের তারিখ চূড়ান্ত করল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি
- সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে, যা জানা গেল
- আপত্তিকর ভিডিও বিতর্কে হাতিয়ার ইউএনওকে ওএসডি
- ফুলবাড়ীয়ায় প্রবাসীদের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ
- শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গুলি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ মার্চ)
- ঈদ সালামি কত টাকা দেবেন?
- তিন দেশে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হলেন ড. ওবায়দুল ইসলাম
- ইউজিসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ঢাবি'র নতুন ভিসি
- মধ্যরাতের আগেই ঝড়ের শঙ্কা চার অঞ্চলে
- গুঞ্জন উড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু