ঢাকা, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২

ঈদের পরই বড় তিন চ্যালেঞ্জের মুখে তারেক রহমানের সরকার

২০২৬ মার্চ ২১ ২১:২০:৫৮

ঈদের পরই বড় তিন চ্যালেঞ্জের মুখে তারেক রহমানের সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পূর্ণ উদ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে। তবে মাত্র এক মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে এখন নানামুখী কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল সমীকরণ সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত তিনটি বড় চ্যালেঞ্জই এখন সরকারের প্রধান মাথাব্যথার কারণ: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

১. জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনই এই মুহূর্তে আমাদের জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।”

এপ্রিল-মে মাসে প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা এবং বোরো আবাদের জন্য সেচের জ্বালানি নিশ্চিত করা সরকারের জন্য কঠিন হবে। সিপিবির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একদিকে চড়া দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের রাজস্ব আয়েও বড় ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

২. অর্থনীতির চাকা সচল রাখা ও বাজেট

বিগত দীর্ঘ সময় ধরে চলা দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ‘ডিজাস্টার’ বা বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি মন্ত্রী। ঈদের পরেই নতুন সরকারকে আগামী অর্থবছরের বাজেট তৈরির কাজ শুরু করতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যেমন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানো—এসবের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ।

৩. রাজনীতির মাঠ ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের তৃতীয় বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদের ভেতরে-বাইরে বিরোধী দলগুলোর চাপ মোকাবিলা করতে হবে সরকারকে।

রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রশাসনে নিয়োগ নিয়ে ইতোমধ্যে এক ধরনের ‘দলীয়করণের’ অভিযোগ উঠেছে, যা জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এছাড়া জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা নিয়েও সরকারের ওপর ব্যাপক জনচাপ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটির পর এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকার কতটা মুন্সিয়ানা দেখাতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত