ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনর্ভর্তি ফি নিষিদ্ধ করল সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাট বন্ধ করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জারি করেছে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’, যা টিউশন ফি, ভর্তি ও বোর্ড পরীক্ষার ফিসহ সব ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি থাকা কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুনরায় ‘পুনর্ভর্তি ফি’ আদায় করা যাবে না। ৯ ফেব্রুয়ারি নীতিমালা চূড়ান্ত করা হলেও সম্প্রতি এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আর্থিক অনিয়মের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক যৌথভাবে দায়ী থাকবেন। দায়িত্ব ছাড়ার পরেও কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা আর্থিক বিধি লঙ্ঘন করলে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে, যা এমপিও স্থগিত বা বরখাস্ত পর্যন্ত হতে পারে।
নতুন নীতিমালার অন্যতম প্রধান দিক হলো নগদ লেনদেন বন্ধ করা। শিক্ষার্থীদের সব ধরনের ফি ও প্রতিষ্ঠানের আয় সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (এসপিজি) বা সরকারি ব্যাংকের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া নগদ গ্রহণ অনুমোদিত নয়। যদি নগদ নেওয়া হয়, তা পরবর্তী দুই কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইমপ্রেস্ট ফান্ড বা খুচরা নগদ তহবিলের ঊর্ধ্বসীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী প্রতি মাসে ১০–৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ খরচ করা যাবে। একক ভাউচারে ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হলে তা ক্রস চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
অর্থনৈতিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ছয়টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে—অর্থ, ক্রয়, উন্নয়ন, টিউশন ফি ও সেশন চার্জ আদায়, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা মূল্যায়ন এবং অভ্যন্তরীণ অডিট। এই কমিটিগুলো নিয়মিত সভা করবে ও প্রতিবেদন পরিচালনা কমিটিতে জমা দেবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিবীক্ষণ ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) একটি অনলাইন ভিত্তিক ‘ই-ক্যাশ বুক’ সিস্টেম তৈরি করবে। সব ভাউচার এই সিস্টেমে এন্ট্রি করতে হবে। এছাড়া মানবিক প্রয়োজনে শিক্ষক-কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ৬ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অগ্রিম বা ঋণ নিতে পারবেন, যা পরে কিস্তিতে বেতন থেকে সমন্বয় করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন এই নীতিমালা ২০২৩ সালের পুরনো নীতিমালা রহিত করে কার্যকর করা হবে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নির্দেশনা জারি
- গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি ফল প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ এপ্রিল)
- টানা ৫ দিনের বড় ছুটিতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ এপ্রিল)
- ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টের পেল বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ এপ্রিল)
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিল
- অনলাইন ক্লাস হতে পারে যেসব স্কুল-কলেজে
- রবি আজিয়াটার বিরুদ্ধে বিএসইসির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু
- সংসদে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন
- দেশে সোনা ও রুপার দামে বড় পতন
- ফের বাড়ছে স্বর্ণের দাম
- সংসদ গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ
- ঢাবিতে ই-মেইল ভেরিফিকেশন প্রশিক্ষণ মঙ্গলবার