×

ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিটিএমএ নেতাদের বৈঠক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৭:৪২:৫৪

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিটিএমএ নেতাদের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বিটিএমএর নেতারা। সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

বৈঠকে দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি, সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন বিটিএমএ সভাপতি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পখাতে, বিশেষ করে টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এর ফলে শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতা সুরক্ষায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকারের নেওয়া উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শওকত আজিজ রাসেল। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিতভাবে পাঁচটি বিষয়ে নীতিগত সহায়তার প্রস্তাব দেয় বিটিএমএ।

প্রস্তাবের একটি হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশ নং-৫১/২০২৬/কাস্টমস/৫১৯, তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুযায়ী এইচএস হেডিং ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাধীন ১০–৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা।

বিটিএমএর ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব এমন কটন সুতার আমদানি কমবে। এর ফলে ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে আমদানি করা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সুতার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

নন-বন্ডেড শিল্পের ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহালের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী রপ্তানি সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সব রপ্তানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বিত টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল কম্পিটিটিভনেস পলিসি প্রণয়নের কথাও জানিয়েছে বিটিএমএ। এ নীতিতে শুল্ক, কর, জ্বালানি, অর্থায়ন ও রপ্তানি সহায়তাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শিল্পখাতে বর্তমানে যে উন্নত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি রয়েছে, তা অব্যাহত রেখে প্রয়োজনীয় চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি ও যাচাইয়ের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রস্তাবও দিয়েছে বিটিএমএ।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিটিএমএ নেতাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনেন। দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিষয়গুলো যথাযথভাবে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

সৌজন্য সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, এসইউপি, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি, জন বিভাগের সচিব এ. জে.এম. সালাহউদ্দিন নাগরী এবং প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

বিটিএমএর পক্ষে সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও যমুনা গ্রুপের এমডি শামীম ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার ছাড়াও সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি, বর্তমান ও সাবেক পরিচালক এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে সংগঠনটির ২৩ জন প্রতিনিধি এ সাক্ষাতে অংশ নেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত