×

ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

লালদিয়া টার্মিনাল হবে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির মাইলফলক: আমির খসরু

২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৭:৩৩:২৯

লালদিয়া টার্মিনাল হবে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির মাইলফলক: আমির খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল একটি মাইলফলক হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, এটি শুধু চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বসেরা টার্মিনাল অপারেটর এপিএম টার্মিনালস ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। আসলে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয় নয়, এটি হয়ে ওঠার বিষয়। চট্টগ্রামে এ ধরনের আরও অনেক প্রকল্প হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। কার্যপরিধি ক্রমাগত বাড়তে থাকলে চট্টগ্রাম সত্যিকার অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে রূপ নেবে।

তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব। সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। তবে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডেনমার্কের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দরে অনেক টার্মিনাল পরিচালনা করছে। চট্টগ্রামের এই টার্মিনাল নির্মাণে তারা ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং যতটুকু জানা গেছে, তা পর্যায়ক্রমে আরও বাড়তে থাকবে। এপিএম মুলারের বাংলাদেশে আসাকে তিনি একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি লালদিয়ায় আধুনিক বন্দর নির্মাণ করবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মিত হলে এর সুবিধা শুধু চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশ পাবে না; পুরো অঞ্চলই এর সুফল ভোগ করতে পারবে। আঞ্চলিক বন্দরগুলোও নিজেদের প্রয়োজনে লালদিয়ায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। এতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবে।

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই স্বপ্ন নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তবে বিদেশি বিনিয়োগে যে গতি শুরু হয়েছে, বেসরকারি খাতও যদি একইভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশ অবশ্যই সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানে পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা ও অংশীদারদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এখানে থাকা বাণিজ্যিক হাব আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। লালদিয়া এপিএম টার্মিনাল পিপিপি পদ্ধতিতে বড় বিনিয়োগ। এখানে অনেক ফ্যাসিলিটিজ থাকবে, যা জাতির জন্য সুসংবাদ।

স্বাগত বক্তব্যে এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড বলেন, টার্মিনালে অ্যাডভান্সড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সেখানে সাতটি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর থাকবে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মেজর গেটওয়ে। দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি এবং ৯৮ শতাংশের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং এই বন্দরের মাধ্যমে হয়। ডেনমার্কে গ্রিন টেকনোলজির কিছু টার্মিনাল দেখার সুযোগ হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর আশা, আগামী ১০ বছরে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং দ্বিগুণ হবে। বিদেশি বিনিয়োগ অংশীদারদের বাংলাদেশে স্বাগত জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, এপিএম টার্মিনালসের বিভির গ্লোবাল হেড অব বিজনেস ইমপ্লেমেন্টেশন জ্যাক ক্রেইগ এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার।

অনুষ্ঠানের শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ অতিথিরা মঞ্চে এসে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসের প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক, চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত