ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
যেকোনো সময় মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল ও সম্প্রসারণ, প্রস্তুত নতুন তালিকা
নিজস্ব প্রতিবেদক: যেকোনো সময় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল ও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পূর্তি ঘিরে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
আগামী ১৭ আগস্ট তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্তি হবে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীসহ ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা কাজ শুরু করে। সরকার গঠনের সময়ই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের প্রথম ছয় মাস নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছিলেন। ভালো পারফরম্যান্সকারী মন্ত্রীরা বহাল থাকলেও ধীরগতি, সমন্বয়হীনতা বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দপ্তর পরিবর্তন কিংবা দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হতে পারে বলে তখন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
নতুন মুখ ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের প্রস্তুতি
সরকারি ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে আট থেকে ১০ জন সম্ভাব্য নতুন মুখের তালিকা, আমলনামা এবং ভেরিফিকেশন রিপোর্ট জমা রয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে যে কোনো মুহূর্তে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
এ পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে প্রশাসনিক গতি বাড়ানো, এক মন্ত্রীর কাঁধে একাধিক মন্ত্রণালয়ের চাপ কমানো এবং সরকারের কর্মদক্ষতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাও বিবেচনায় রয়েছে।
কারা আলোচনায়
মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক, মাহিদুর রহমান, বরকতুল্লাহ ভুলু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মো. মোহাম্মদ আবুল কালাম, এবিএম মোশাররফ হোসেন, খায়রুল কবির খোকন, এরশাদ উল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মাহমুদা হাবিবা ও রেহানা আক্তার রানুর নাম আলোচনায় রয়েছে।
নোয়াখালী অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি বর্তমান মন্ত্রিসভায় না থাকায় ওই অঞ্চলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে। সে কারণেও নোয়াখালীর নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
দপ্তর পরিবর্তনের গুঞ্জন
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রথম দফায় কাউকে সরাসরি বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যের কারণে কয়েকজন মন্ত্রীকে অন্য দপ্তরে সরিয়ে দেওয়ার আলোচনা চলছে।
গুঞ্জন রয়েছে, দুর্যোগকালীন সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের কারণে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। একইভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার শাখাওয়াত হোসেন বকুলের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যেও সরকার বিব্রত হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পূর্ণমন্ত্রী করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আছে।
শরিকদেরও সুযোগ মিলতে পারে
টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির বাইরে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও মিত্র দলগুলোর মধ্য থেকেও কাউকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। এতে রাজনৈতিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রথম ১০০ দিন পার হওয়ার পর সরকার এখন বাস্তবায়ন ও ফল দেখানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। দায়িত্ব ভাগ হলে কাজের গতি বাড়বে, তাই নতুন মুখ আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভার রদবদল কেবল প্রশাসনিক গতি বাড়ানোর জন্য নয়; এর পেছনে রাজনৈতিক কৌশলও কাজ করে। ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী দিনে নির্বাচনী ইশতেহারের বাকি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর নেতৃত্ব বসানোই সরকারের লক্ষ্য হতে পারে।
তারা মনে করছেন, যেসব মন্ত্রণালয়ে পারফরম্যান্স ঘাটতি বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে, সেখানে অভিজ্ঞ ও কর্মঠ নেতাদের দায়িত্ব দিলে কাজের গতি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বর্ষীয়ান, তরুণ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের চেষ্টা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার
মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটি একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি প্রয়োজন মনে করলে কাউকে যুক্ত করতে পারেন, আবার কারও পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলে বাদও দিতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকে। মন্ত্রিসভার পরিবর্তন বা সম্প্রসারণ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।’
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন। গত ১ জুন তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার আকস্মিক পদত্যাগের পর রাঙামাটিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রিসভায় মোট ৫০ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। সব মিলিয়ে এখন মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল ও সম্প্রসারণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে; তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন ম্যাচ শুরু, LIVE দেখুন এখানে
- ২০৩০ বিশ্বকাপেও কি খেলবেন মেসি? যা বললেন স্কালোনি
- বিশ্বকাপ জিতলে কত টাকা পাবে চ্যাম্পিয়ন দল? জানুন বিস্তারিত
- আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ যেভাবে দেখবেন
- বিশ্বকাপের আগে দেওয়া কথা কি রাখবেন ইয়ামাল?
- আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- ফাইনালে কে জিতবে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন, জানাল এআই
- আজকের খেলার সময়সূচি (১৭ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দামি( ২১ জুলাই )
- জামায়াত এমপির অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’
- জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- বিশ্বকাপ জিতে দেশে ফিরল স্পেন, রাজকীয় সংবর্ধনা
- কক্সবাজার সৈকতে টর্নেডোর আঘাত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ জুলাই)
- আগামীকাল ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা