×

ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

‘জেড’ ক্যাটাগরি থেকে এক লাফে 'এ' ক্যাটাগরিতে সোনালী আঁশ

২০২৬ জুলাই ১৩ ১০:২১:০৫

‘জেড’ ক্যাটাগরি থেকে এক লাফে 'এ' ক্যাটাগরিতে সোনালী আঁশ

অর্থনীতি ডেস্ক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ‘জেড’ ক্যাটাগরি থেকে এক লাফে 'এ' ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে। গত ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ১৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে সফলভাবে বিতরণ করার পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গতকাল ১২ জুলাই ডিএসইর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিভিডেন্ড বিতরণ সম্পন্ন করায় কোম্পানিটিকে একই দিন থেকে নিয়মিত ট্রেডিং ক্যাটাগরিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই ইতিবাচক ঘোষণার পর আজ দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৩.৪৫ শতাংশ বেড়ে ২২৪.৭০ টাকায় স্থির হয়েছে।

ডিএসইর লিস্টিং রেগুলেশন বা তালিকাভুক্তি নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব কোম্পানি নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করে এবং সময়মতো লভ্যাংশ ঘোষণা ও বিতরণসহ অন্যান্য প্রধান আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলে, তাদের 'এ' ক্যাটাগরিতে রাখা হয়। অন্যদিকে, লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়া, সময়মতো এজিএম না করা, দীর্ঘকাল উৎপাদন বন্ধ থাকা বা অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করলে কোম্পানিগুলোকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ফেলে দেওয়া হয়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনালী আঁশের এই ক্যাটাগরি পরিবর্তন কোম্পানিটির আইনি কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে একটি বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ফেরার কারণে কোম্পানিটি আবার নিয়মিত লেনদেনের সব ধরনের সুবিধা ফিরে পাবে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা আবারও মার্জিন ঋণের সুবিধাও পেতে পারেন, যা বাজারে এই শেয়ারের লেনদেন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু ক্যাটাগরি দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না; বিনিয়োগকারীদের উচিত কোম্পানির আয়, নগদ প্রবাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা।

এদিকে, ক্যাটাগরি পরিবর্তনের পাশাপাশি কোম্পানিটির আর্থিক সূচকেও প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, সোনালী আঁশের শেয়ার প্রতি আয় আগের বছরের ১.৮১ টাকা থেকে বেড়ে ১.৯৭ টাকা হয়েছে। এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির ইপিএস আগের বছরের ৫.২৩ টাকা থেকে বেড়ে ৫.৬২ টাকায় পৌঁছেছে। সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্যে। গত ৩০ জুন ২০২৫ শেষে যেখানে তাদের এনএভি ছিল মাত্র ৩২.৮১ টাকা, তা গত ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে এক লাফে ২৩৪.৩৪ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত তাদের কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের পুনঃমূল্যায়ন করার কারণেই নিট সম্পদ মূল্যে এই বিশাল প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো লভ্যাংশ বিতরণ ও করপোরেট সুশাসনের বিষয়ে নজরদারি কঠোর করায় কোম্পানিগুলো এখন নিজেদের কমপ্লায়েন্স বা আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর হচ্ছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত