ঢাকা, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ড. ইউনূসসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

২০২৬ জুন ০৮ ১৩:১৩:৩৮

ড. ইউনূসসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাম ও রুবেলা টিকার সংকট সৃষ্টি এবং এর ফলে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগ এনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এ আবেদন করেন। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ২৭০, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়েরের আবেদন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ জানান, আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।

মামলার আবেদনের সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আবেদনে অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরকে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, দেশে শিশুদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে হাম ও রুবেলার টিকা প্রদান করা হয়। তবে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকারের সময়ে ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা আমদানির প্রচলিত ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় বিলম্ব হওয়ায় দেশে টিকার সংকট তৈরি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও বলা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স একাধিক চিঠির মাধ্যমে সম্ভাব্য টিকা সংকট সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক করেছিলেন। সরবরাহ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেননি বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে দাবি করা হয়, টিকার ঘাটতির কারণে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক আকার ধারণ করে। সরকারি তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৭০৮ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৬১০ শিশুর মৃত্যু এবং প্রায় ৭৫ হাজার ৭০০ শিশুর শারীরিক ক্ষতির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথিতে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের আবদুল্লাহ আল ফাহিম, আবদুল্লাহ আল নোমান এবং ফাইয়াজ হাসান তাজিমের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় স্থানীয় থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতের পরামর্শে এ মামলা আবেদন করা হয়। আবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের কমেছেসোনার দাম

ফের কমেছেসোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে... বিস্তারিত