ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
কৃষি আধুনিকায়নে সরকারের বড় উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষিখাতে আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে বিস্তৃত মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’, যার মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ এবং খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমি হ্রাস ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা কৃষিখাতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্রপাতি, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বিমা, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়, কৃষি প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য এবং ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শ। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ, সুষম সার ও আধুনিক সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকির মাধ্যমে ট্রাক্টর, হারভেস্টার ও রিপার সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পতিত জমি আবাদে আনতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট এলাকার মাটি ও পরিবেশ অনুযায়ী উপযোগী ফসল চাষ করা যায়। একই সঙ্গে খাল খনন ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে পতিত জমি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিলেট ও চরাঞ্চলে বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমেও এ কার্যক্রম চলছে।
কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার ধাননির্ভরতা কমিয়ে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও উপকরণ বিতরণে ব্যয় হয়েছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। ফল ও সবজি সংরক্ষণে মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল ও ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)-এর মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী ও স্বল্পমেয়াদি নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে। বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল ফসলের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় লবণাক্ততা, খরা ও বন্যা সহনশীল ফসল, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা, কম সেচ ও রাসায়নিক ব্যবহার, AWD পদ্ধতি, প্রি-পেইড মিটার এবং ‘খামারি অ্যাপ’-এর মতো ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও দক্ষ কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ অক্টোবর)
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২৬ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- ‘অনেক শিশুকে চুমু দিয়েছি, আমাকে মারার সাহস আছে?’
- দেশের যেসব অঞ্চলে পাঁচ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
- আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত