ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২

মেধার ভিত্তিতেই হবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ: এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান

২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১৪:৩৪:৪৯

মেধার ভিত্তিতেই হবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ: এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারছে। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থায় তদবিরের সুযোগ আর থাকবে না এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়া সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এনটিআরসিএর সম্মেলন কক্ষে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাকে সামনে রেখে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান বলেন, দেশের শিক্ষক সমাজকে ঘিরে নানা আলোচনা থাকলেও তাদের যথাযথ মূল্যায়ন সবসময় নিশ্চিত করা যায়নি। তবে প্রশাসনিক প্রধান বা সহকারী প্রধান হওয়ার পথ সহজ করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিকে তদবির, স্বজনপ্রীতি ও অর্থনির্ভর প্রক্রিয়ার বাইরে এনে সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক কাঠামোয় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে অনেকেই মনে করতেন সুপারিশ বা অর্থ ছাড়া চাকরি পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এনটিআরসিএ সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। এখন দেশের যেকোনো প্রান্তের প্রার্থী মেধা থাকলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা সহকারী প্রধান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বদলি কার্যক্রম চালুর বিষয়ে তিনি জানান, আগে একজন প্রধান দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতেন। এখন বদলির সুযোগ তৈরি হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গতিশীলতা বাড়বে এবং প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যোগ্যতা অনুযায়ী একজন প্রধান উন্নত প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগও পাবেন।

তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত না হলে কারও যোগ্যতা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা কঠিন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষা, একাডেমিক ফলাফল ও ভাইভা বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থীদের মেধা যাচাই করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন করা হয়।

এমপিওভুক্তির দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সহজ করতে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। বর্তমানে যোগদানের তারিখ থেকেই বেতন কার্যকর করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত জটিলতা আরও কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, এনটিআরসিএ এখন শিক্ষকদের কাছে একটি আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান, যাতে আরও বেশি প্রার্থী আবেদন করতে উৎসাহিত হন এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নত হয়।

উল্লেখ্য, দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ হাজার ৯৫১টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য এই পরীক্ষায় অংশ নিতে ৫৩ হাজার ৬৯টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ৪৭ হাজার ৩৫১ জন এবং মহিলা প্রার্থী ৫ হাজার ৭১৮ জন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

মার্চে কমেছে মূল্যস্ফীতি, তবু স্বস্তি নেই শ্রমজীবীদের

মার্চে কমেছে মূল্যস্ফীতি, তবু স্বস্তি নেই শ্রমজীবীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা কমে আসায় দেশে মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারির তুলনায়... বিস্তারিত