ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে পর্যাপ্ত গবেষণা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা

২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৭:৩৭:৪৫

অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে পর্যাপ্ত গবেষণা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেমের বর্তমান অবস্থা নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও মিলেছে প্লাস্টিক, আর অতিরিক্ত মাছ আহরণের ফলে দেখা দিয়েছে জেলি ফিশের মাত্রাতিরিক্ত আধিক্য।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মৎস্যসম্পদ বিষয়ক এক গবেষণা প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় গবেষণার ওপর জোর দেন।

গবেষণা জাহাজ 'আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ নানসেন' (R.V. Dr. Fridtjof Nansen) গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ চালায়। আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী এই গবেষণায় অংশ নেন। মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী গবেষণার তথ্য-উপাত্ত প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বঙ্গোপসাগরে নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, গভীর ও অগভীর উভয় অঞ্চলেই বড় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। বর্তমানে প্রায় ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ট্রলার মৎস্য আহরণ করছে, যার মধ্যে ৭০টি ‘সোনার’ (Sonar) প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘টার্গেটেড ফিশিং’ করছে। এই আগ্রাসী পদ্ধতির ফলে স্বল্প গভীরতার জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, এভাবে টার্গেটেড ফিশিং চলতে থাকলে বঙ্গোপসাগর দ্রুত মাছশূন্য হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা নিরসনে সরকার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের আধিক্য বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ। তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে টুনা মাছের ব্যাপক সম্ভাবনা এবং সুন্দরবনের নিচে একটি ‘ফিশিং নার্সারি’র সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই নার্সারিটি সংরক্ষণের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "আমাদের স্থলভাগের সমপরিমাণ জলভাগ রয়েছে, কিন্তু এই সম্পদের সঠিক পরিমাণ ও সম্ভাবনা আমরা এখনো পুরোপুরি জানতে পারিনি। অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে পর্যাপ্ত গবেষণা ও পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন।" তিনি জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের মতো দেশগুলোর সাথে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি যুক্ত হলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণা ও সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত