ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
চবির ছাত্রী হলে সান্ধ্য আইন, দেরিতে ফিরলেই ‘সিট বাতিল’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রীদের রাত ১০টার পর হলে ফিরলে সিট বাতিলের ‘হুমকি’ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে সহকারী প্রক্টর নিজে হলে এসে ছাত্রীদের হলে ফেরার নির্দেশ দেন এবং ১০টা ১ মিনিটেও হলে না ফিরলে ‘সিট বাতিল’ করা হবে বলে জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপ্লবী উদ্যান ও লেডিস ঝুপড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “প্রক্টরিয়াল টিম এসে মেয়েদের সোজা বলে দেয় ১০টার পর কেউ বাইরে থাকলে সিট থাকবে না।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী প্রক্টর নাজমুল হোসেইন বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনার ভিত্তিতে তাদের হলে ফিরতে বলা হয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে একপাক্ষিক, বৈষম্যমূলক এবং নারী বিদ্বেষী আচরণ হিসেবে দেখছেন। চবির সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সমন্বয়ক ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার বলেন, “এটি স্পষ্টত নারী বিদ্বেষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের প্রকাশ। আমরা প্রতিবাদ গড়ে তুলব।”
চারুকলার শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী বলেন, “সান্ধ্য আইন তো রাষ্ট্র জারি করে। বিশ্ববিদ্যালয় কেন তা মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দেবে? এটা অপমানজনক ও বৈষম্যমূলক। অনেক শিক্ষার্থী টিউশন বা চাকরি করে রাতেই হলে ফেরে।”
এ প্রসঙ্গে বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট ড. জান্নাত আরা পারভীন জানান, “রাত ১০টার মধ্যে হলে ফেরা নিয়ম অনেক আগে থেকেই আছে। কেউ নিয়মিত দেরি করলে সতর্ক করা হয়, প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে সিট একবারেই বাতিল হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “রাত ২টা-৩টা পর্যন্ত বাইরে ঘোরাঘুরি হলে হলের শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। ১০টা একটা মানসম্মত সময়। যারা নিয়ম মানে না, তারা ভালো শিক্ষার্থী নয়।”
চবি প্রক্টর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, “কিছু অন্ধকার ও অনিরাপদ জায়গা আছে যেখানে রাতে শিক্ষার্থীদের থাকা উচিত নয়। সম্প্রতি গাঁজাসহ কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। নির্দেশনাটি মূলত এমন জায়গাগুলোর জন্য। লাইব্রেরি বা শহীদ মিনারের মতো জায়গায় থাকায় সমস্যা নেই।”
তিনি বলেন, “রাত ১০টার পর হলে ফিরতে চাইলে আগেই হলে জানাতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কঠোর নির্দেশনা জারি হয়নি।”
শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিয়মের আড়ালে আসলে নারীদের চলাফেরার স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত নিরাপত্তা জোরদার করা, কারফিউ জারি নয়।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত
- শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান