ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

‘নারীদের জন্য কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করছে সরকার’

২০২৬ মে ১৩ ২১:৩৭:৪০

‘নারীদের জন্য কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করছে সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের তরুণ ও নারী জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করছে।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ: এনজিওর ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসে সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে দক্ষতা ও কারিগরি শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর মতে, সবার অনার্স-মাস্টার্স করার প্রয়োজন নেই; বরং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার মাধ্যমে শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শুধু সনদ অর্জন নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা এবং শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

সরকারের তিন মাস পূর্তির প্রসঙ্গ তুলে মুখপাত্র বলেন, জনগণের বড় প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব এখন সরকারের ওপর। তিনি দাবি করেন, গত ১৮ বছরে যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ঘাটতি ছিল, সরকার তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

মাহদী আমিন বলেন, যৌক্তিক সমালোচনার সুযোগ থাকা উচিত এবং মতাদর্শগত ভিন্নতা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি জানান, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী এবং কৃষি ঋণসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির কিছু কার্যক্রম ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে এনজিওগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে এনজিওগুলোর দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে। সরকার এককভাবে নয়, বরং এনজিওগুলোকে বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে নিয়ে নীতিনির্ধারণ ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, এ খাতে দক্ষ জনবলও তৈরি করতে হবে। বিদেশেও বৃক্ষরোপণে প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এনজিওগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত