ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

২৬ দিনে ৮ বার ভূমিকম্প; বড় দুর্যোগের আশঙ্কায় দেশ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১২:৩৯:৩৫

২৬ দিনে ৮ বার ভূমিকম্প; বড় দুর্যোগের আশঙ্কায় দেশ

ডুয়া ডেস্ক: মাত্র ২৬ দিনের ব্যবধানে আটবার ভূমিকম্পের ঝাকুনিতে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ, যা বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ‘অশনি সংকেত’ কি না তা নিয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার রাতেও মিয়ানমারে উৎপন্ন ৫.১ মাত্রার একটি মাঝারি কম্পনে ঢাকাসহ দেশের বিশাল এলাকা দুলতে থাকলে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন আতঙ্কিত মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাত ১০টা ৫১ মিনিটের এই কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১২৯ কিলোমিটার গভীরে।

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই মাটির নিচের অস্থিরতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে মৃদু কম্পন দিয়ে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে সাতক্ষীরা ও মিয়ানমারে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুবার এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকায় ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক মাসেরও কম সময়ে এত ঘন ঘন কম্পন হওয়া ভৌগোলিক পরিবর্তনের এক আশঙ্কাজনক দিক।

বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, গত নভেম্বরে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। সেই রেশ না কাটতেই নতুন করে এই কম্পনের ধারাবাহিকতা বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, উদ্ধার তৎপরতার চেয়েও এখন বেশি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ছোট ও মাঝারি মাত্রার এই ঘন ঘন কম্পন মূলত ভূ-অভ্যন্তরে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সঞ্চিত হওয়ার বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশ যেহেতু ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, তাই এই অস্থিরতা যেকোনো সময় বড় বিপর্যয়ের রূপ নিতে পারে। তিনি মনে করেন, ছোট কম্পনগুলো আসলে নির্দেশ করছে যে মাটির নিচে এক ভয়াবহ মহাবিপদ জমা হচ্ছে।

বিপর্যয় এড়াতে এখন থেকেই ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকা তৈরি করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। শুধু সচেতনতা নয়, বরং বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিয়মিত জাতীয় মহড়া এবং ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপনা নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত