ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসে গেলেন এস আলম
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) তার পরিবারের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক সালিসিতে গেছেন। সোমবার তিনি ও তার পরিবারের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত বিশ্বব্যাংক সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র (ICSID)-এ সালিসি আবেদন জমা দিয়েছেন। এতে তারা অভিযোগ করেছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাদের পরিবারকে “অযৌক্তিকভাবে সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের লক্ষ্যে” টার্গেট করেছে।
ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, এস আলমের এই মামলা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বিশেষত শেখ হাসিনা সরকারের সময় পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগের ক্ষেত্রে। সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।
অর্থপাচার অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর। তিনি অভিযোগ করেন, এস আলম পরিবার একাই ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়েছে। তবে এস আলম এই অভিযোগকে “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেছেন।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে এস আলমের আইনজীবীরা সরকারের সঙ্গে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে ছয় মাস সময় বেঁধে দেন এবং সতর্ক করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক সালিসিতে যাবেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, মার্কিন আইন প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল অ্যান্ড সুলিভান এস আলমের পক্ষে সালিসি আবেদন করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সরকার এস আলম পরিবারের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দ করেছে, তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে “মিথ্যা তদন্ত” চালাচ্ছে এবং “ইচ্ছাকৃতভাবে মিডিয়া প্রচারণার মাধ্যমে তাদের মানহানি করছে”।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব কার্যক্রমের ফলে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে, যদিও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর বলেছেন, “সালিসের কপি হাতে পাওয়ার পর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেব।” অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের অফিস এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সালিসটি বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে ২০০৪ সালের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় দাখিল করা হয়েছে। কারণ, এস আলম পরিবার ২০১১ সাল থেকে সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তারা ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।
অর্থনীতিবিদ আহসান মনসুরের মতে, এস আলম পরিবার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ব্যাংক দখল ও অনিয়মিত ঋণপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। তবে সালিসি দাবিতে এস আলম পক্ষ জানিয়েছে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি এবং অভিযোগগুলো “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা