ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসে গেলেন এস আলম
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) তার পরিবারের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক সালিসিতে গেছেন। সোমবার তিনি ও তার পরিবারের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত বিশ্বব্যাংক সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র (ICSID)-এ সালিসি আবেদন জমা দিয়েছেন। এতে তারা অভিযোগ করেছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাদের পরিবারকে “অযৌক্তিকভাবে সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের লক্ষ্যে” টার্গেট করেছে।
ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, এস আলমের এই মামলা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বিশেষত শেখ হাসিনা সরকারের সময় পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগের ক্ষেত্রে। সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।
অর্থপাচার অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর। তিনি অভিযোগ করেন, এস আলম পরিবার একাই ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়েছে। তবে এস আলম এই অভিযোগকে “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেছেন।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে এস আলমের আইনজীবীরা সরকারের সঙ্গে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে ছয় মাস সময় বেঁধে দেন এবং সতর্ক করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক সালিসিতে যাবেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, মার্কিন আইন প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল অ্যান্ড সুলিভান এস আলমের পক্ষে সালিসি আবেদন করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সরকার এস আলম পরিবারের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দ করেছে, তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে “মিথ্যা তদন্ত” চালাচ্ছে এবং “ইচ্ছাকৃতভাবে মিডিয়া প্রচারণার মাধ্যমে তাদের মানহানি করছে”।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব কার্যক্রমের ফলে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে, যদিও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর বলেছেন, “সালিসের কপি হাতে পাওয়ার পর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেব।” অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের অফিস এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সালিসটি বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে ২০০৪ সালের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় দাখিল করা হয়েছে। কারণ, এস আলম পরিবার ২০১১ সাল থেকে সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তারা ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।
অর্থনীতিবিদ আহসান মনসুরের মতে, এস আলম পরিবার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ব্যাংক দখল ও অনিয়মিত ঋণপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। তবে সালিসি দাবিতে এস আলম পক্ষ জানিয়েছে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি এবং অভিযোগগুলো “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩১ অক্টোবর)
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জেনে নিন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুকদের সুখবর দিল সরকার
- নভেম্বরের শুরুতে টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত
- এইচএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল কবে, জানাল বোর্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (০১ নভেম্বর)
- সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় এনজিওতে চাকরির সু্যোগ, বেতন ২৫-৬০ হাজার
- ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এমপির ছেলেকে যুবদল থেকে বহিষ্কার
- আজকের খেলার সময়সূচি (৩০ অক্টোবর)