×

ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে সূচক, আস্থা সংকটে বিনিয়োগকারীরা

২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৫:১৯:৫৯

৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে সূচক, আস্থা সংকটে বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধারাবাহিক দরপতনের কারণে আজ (০২ নভেম্বর) সূচক ৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। দিন যত যাচ্ছে বাজার নিয়ে হতাশাও তত বাড়ছে। এরপরও পতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর থেকেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা উঠে গেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, এভাবে একটি দেশের শেয়ারবাজার চলতে পারে না। বাজারে উত্থান-পতন থাকবেই, তবে তা সময়ের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বর্তমানে ডিভিডেন্ড মৌসুম চলার মধ্যেই বাজারের এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না। ইতিমধ্যে প্রায় তিন শতাধিক কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে অনেক কোম্পানি উল্লেখযোগ্য হারে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। অথচ সেই ডিভিডেন্ডের ভিত্তিতে বাজার স্থিতিশীল না হয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

দিন যত যাচ্ছে বাজারের অবস্থা তত তলানীর দিকে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যাবে। এরপরও দরপতন খতিয়ে দেখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো উদ্যোগ নেই, যা বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যথাযথ চেষ্টা করা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো উদ্যোগ নেই কেন, তা বোঝা যাচ্ছে না। তারা মুখে শুধু বাজার সংস্কারের উদ্যোগের কথা বলছেন। বাজার যদি লেনদেন উপযোগী না হয়, তবে উদ্যোগ ও সংস্কার দিয়ে কী হবে? বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুনভাবে শেয়ার ক্রয় করা যাচ্ছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বর্তমান কমিশনের পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে আজ (০২ নভেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১.৫৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩৩.৫৭ পয়েন্টে, যা প্রায় ৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে চলতি বছরের ২৩ মে ছিল ৫ হাজার ৩২৮.৩৫ পয়েন্ট। আজ অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৮.১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭.৮১ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ২৬.২৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৪২.১৩ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮৮টির দর বেড়েছে, ২৪৯টির দর কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে এদিন প্রায় ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ৬৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগেরদিন সিএসইতে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৭৬টির, কমেছে ৮৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১৯টির।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৪.৬০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯.৬৬ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ৮২.০১ পয়েন্ট কমেছিল।

আরিফ/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত