ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

অবৈধ আদেশের ভিত্তিতে গণভোট হয়েছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ১৯ ২২:২৬:২৯

অবৈধ আদেশের ভিত্তিতে গণভোট হয়েছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটটি সাংবিধানিক ছিল না; বরং একটি অবৈধ আদেশের ভিত্তিতে তা আয়োজন করা হয়েছিল। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়াই ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অধীনে একটি ছলচাতুরির গণভোট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি সাংবিধানিক ছিল না, বরং একটি অবৈধ আদেশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়াই ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর আওতায় চারটি প্রশ্নের বিপরীতে মাত্র একটি ‘হ্যাঁ/না’ উত্তরের বিধান রেখে গণভোট আয়োজন করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে কি না, তা জানতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের ভিত্তিতেই গণভোট হওয়া উচিত ছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কয়েকটি কমিশনের সমালোচনা করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, কিছু অধ্যাদেশে নির্দিষ্ট কাজের পরিবর্তে কিছু ব্যক্তির কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের প্রতিকার পাওয়ার বিষয়টিও সেখানে স্পষ্ট ছিল না।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও দেশীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ আনার প্রস্তুতি চলছে। এতে গুমের বিভিন্ন স্তর, শাস্তি এবং বিচারিক এখতিয়ার নির্দিষ্ট করা হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন–সংক্রান্ত আইন যুগোপযোগী করার কথাও জানান তিনি। তবে মানবাধিকার আইনের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও জাতীয় সংহতির বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনায় রাখা হবে, যাতে এলজিবিটিকিউ–এর মতো সমাজ-স্বীকৃত নয় এমন বিষয় দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়।

বক্তব্যের শুরুতেই মব জাস্টিসের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মব কোনোদিন জাস্টিস হতে পারে না। এটি একটি অপকালচার। আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় এই মব কালচারের সৃষ্টি হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাঁর দাবি, দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতের অনেকেই এখনো রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়িত্ব পালন করছেন, যার ফলে সমাজে অবিচার সৃষ্টি হচ্ছে।

বিগত নির্বাচন ও ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় বিচার বিভাগের একটি অংশের সহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে তাঁদের ৩১ দফার প্রথম দফাতেই সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অল্প কয়েকটি ছাড়া বাকি সব বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে। তবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্থায়ী সংস্কারের জন্য সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন।

সংবিধানকে একটি পরিবর্তনশীল দলিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে। প্রস্তাবনা বা মৌলিক কিছু অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে গণভোট আয়োজন করতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘এই গণভোট সেটি নয়।’

আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। আন্দোলনের সময় আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে ৫ আগস্টের বিজয় এসেছে।

১৯ জুলাই সবচেয়ে বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা শুধু মন্ত্রী বা উপদেষ্টা হওয়ার জন্য জুলাইয়ের চেতনাকে ব্যবহার করছেন, তাদের পুরোনো বন্দোবস্তের আদলে আওয়ামী বন্ধু কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করতে হবে।

‘দায় ও দরদের রাজনীতি’ বা ‘নতুন বন্দোবস্ত’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহারকারী বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এত বাক্যবিশারদ হওয়া ভালো না। আপনাদের নতুন বন্দোবস্ত আসলে কী, তা দয়া করে জনগণের সামনে পরিষ্কার করুন।’

বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিজেদের হীন স্বার্থে কখনো ‘৪৭-কে ব্যবহার করা, আবার ‘৭১-কে অস্বীকার করে ‘২৪-কে ব্যবহার করার রাজনীতি আর চলতে পারে না। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে এবং স্বৈরাচারের ফেরার পথ বন্ধ করতে দেশের গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার... বিস্তারিত